ঝিনাইদহে তুচ্ছ পারিবারিক বিরোধ ও কলহের জেরে পৃথক দুটি ঘটনায় আপন দুই ভাই নিহত হয়েছেন। এক ঘটনায় ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই এবং অন্য ঘটনায় বড় ভাইয়ের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই নিহত হন। শনিবার বিকেলে শৈলকূপা উপজেলায় এবং সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শৈলকূপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে গাছের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের লাঠির আঘাতে বড় ভাই মজিবুল ইসলাম (৪৮) নিহত হয়েছেন।
গত শুক্রবার বাড়ির উঠানে থাকা একটি গাছ থেকে বড় ভাই মজিবুলের সুপারি পাড়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই রবিউলের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে শনিবার বিকেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও মারামারি শুরু হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ছোট ভাই রবিউল লাঠি দিয়ে বড় ভাই মজিবুলের মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে মজিবুলের স্ত্রী ও ছেলেও রক্তাক্ত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মজিবুলকে উদ্ধার করে শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর অভিযুক্ত রবিউল আত্মগোপনে চলে যান। এদিকে গ্রামবাসী তার স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
শৈলকূপা থানার ওসি হুমায়ুন কবীর মোল্লা জানান, নিহতের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি রবিউলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের বকশিপুর-চাঁদপুর গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে বড় ভাই সুমন মন্ডলের কোদালের আঘাতে ছোট ভাই সোহান মন্ডল (২৮) নিহত হয়েছেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে সুমনের সঙ্গে সোহানের স্ত্রীর ঝগড়া হয়। পরে সন্ধ্যায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সুমন পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথায় সজোরে আঘাত করে পালিয়ে যান।
গুরুতর আহত সোহানকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হুমায়রা হুমা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

