সাতক্ষীরায় কলেজছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসানসহ তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী শুইলপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার নাহিদ হাসান সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা এলাকার গিয়াসউদ্দিনের ছেলে। তার সহযোগী অমিত হাসান ওরফে শিপন হাসান (৩০) একই এলাকার হুমায়ুন কবীরের ছেলে।
মঙ্গলবার সদর থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্র জাকারিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি নাহিদ হাসান ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কালিগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করছেন—এমন গোপন তথ্য পায় পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানা, কালিগঞ্জ থানা ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি যৌথ দল আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে শুইলপুর সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মূল এজাহারভুক্ত আসামি নাহিদ এবং জাকারিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন আসামি অমিত হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহরস্থ প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন এক চায়ের দোকানে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। চায়ের দোকানদার রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে আসামি নাহিদসহ স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ সময় বাপ্পি হাসানকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতের শিকার হন কলেজছাত্র জাকারিয়া। পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদী হয়ে শনিবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৭ জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই শনিবার ভোরে পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে এজাহারভুক্ত অন্য আসামি মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

