আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সাড়ে ৫০০ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য

সংস্কারের অভাবে জৌলুস হারাচ্ছে খানজাহান আলী মসজিদ

উপজেলা প্রতিনিধি, অভয়নগর (যশোর)

সংস্কারের অভাবে জৌলুস হারাচ্ছে খানজাহান আলী মসজিদ
ছবি: আমার দেশ

মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন যশোরের অভয়নগর উপজেলার খানজাহান আলী (রহ.) মসজিদ। সাড়ে ৫০০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহাসিক স্থাপনা অযত্ন আর অবহেলায় তার জৌলুস হারাতে বসেছে। মুসলিম ধর্মপ্রচারক পীর খানজাহান আলী (রহ.)-এর হাতে নির্মিত মসজিদটি আজ সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঐতিহাসিক তথ্য মোতাবেক, খ্রিস্টাব্দ ১৫ শতকের শেষদিকে খানজাহান আলী তার অনুসারী ও সৈন্যবাহিনী নিয়ে যশোর জেলার বারবাজার এলাকা থেকে ভৈরব নদের তীর ধরে পূর্বদিকে এগিয়ে যান। চলার পথে তিনি রাস্তা নির্মাণ, দিঘি খনন ও ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে মসজিদ স্থাপনা করেন। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক সতীশচন্দ্র মিত্রের যশোর ও খুলনার ইতিহাস গ্রন্থের (প্রথম খণ্ড) ‘খলিফাতাবাদ’ অধ্যায়ে খানজাহান আলী (রহ.) কর্তৃক নির্মিত মসজিদের বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, ভৈরব নদের তীর ধরে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া গ্রামে পৌঁছান খানজাহান আলী (রহ.)। খ্রিস্টীয় ১৪৪৫ থেকে ১৪৫৯ সালের মধ্যে কোনো একসময় মসজিদটি নির্মাণ করেন। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বাশুয়াড়ী গ্রামে এক রাতের মধ্যে একটি দিঘিও খনন করেছিলেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামের ভেতরে গাছগাছালি ও বাঁশবাগানের মাঝে লাল পোড়া মাটির রঙের মসজিদের মাঝামাঝি একটি গম্বুজ ও চার কোণে ৪টি মিনার রয়েছে। সংস্কারের অভাবে বাইরের পোড়া মাটির ইট ও দরজার কপাট নষ্ট হচ্ছে। খসে পড়ছে দেয়ালের রঙ ও পলেস্তারা। সেখানে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের সাইনবোর্ডের লেখা অনুযায়ী, বর্গাকার মসজিদটির অভ্যন্তরীণ পরিমাপ ৫.১৩ বর্গমিটার। চার কোনায় ৪টি অষ্টমকোনাকৃতি টারেট রয়েছে।

amaerdesh 520 (9)

মসজিদের ভেতরের আয়তন ১৬ ফুট ১০ ইঞ্চি বাই ১৬ ফুট ১০ ইঞ্চি। উচ্চতা ২৫ ফুট। বাইরের মাপ এক মিনারের মধ্যবিন্দু থেকে অন্য মিনারের মধ্যবিন্দু পর্যন্ত ২৮ ফুট ৬ ইঞ্চি। উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণে ৩টি দরজা রয়েছে। পূর্বদিকের সদর দরজা ও এর খিলানের উচ্চতা ১১ ফুট এবং প্রস্থের উচ্চতা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি। প্রতিদিন শত শত মানুষ মসজিদটি দেখতে আসলেও এর জরাজীর্ণ অবস্থা তাদেরকে হতাশ করছে।

এলাকার প্রবীণ আলী আহমেদ খান জানান, ‘প্রায় ১০০ বছর পূর্বে মসজিদের ছাদ ভেঙে পড়ে। তখন গ্রামবাসীর উদ্যোগে গোলপাতার ছাউনি দিয়ে নামাজ আদায় করা হত। পরে সরকারি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ছাদ নির্মাণ করে দেয়। এখনো প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে থাকলেও কোনো দৃশ্যমান সংস্কার নেই। ফলে মসজিদের ভেতর, বাহিরসহ গম্বুজ ও মিনার ধ্বংস হতে শুরু করেছে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।’

amaerdesh 520 (10)

খানজাহান আলী (রহ.) মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘সংস্কার না করায় মসজিদের ভেতর ও বাইরের জৌলুস নষ্ট হতে শুরু করেছে। সরকারি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাধীন হলেও ইমাম ও মোয়াজ্জিনের নেই কোনো ভাতার ব্যবস্থা।’ শুভরাড়া ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘সাড়ে ৫০০ বছরের প্রাচীন এ মসজিদের জৌলুস টিকিয়ে রাখতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, ‘খানজাহান আলী (রহ.) হাতে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক মসজিদটির সংস্কার প্রয়োজন। সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিকট যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...