বাগেরহাটের মোংলায় ক্লোন করা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে বিকাশ ও নগদের ব্যবসায়িক সিম পুনরায় উত্তোলন (রি-ইস্যু) করে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে একটি প্রতারক চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা, ১১টি মুঠোফোন ও ২০টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
পুলিশ সুপার জানান, মোংলা উপজেলার চিলা বাজারের বিকাশ ও নগদের এজেন্ট সেলিম শেখের দুটি এবং অপর এজেন্ট বিপ্লব মণ্ডলের একটি ব্যবসায়িক সিম ডিজিটাল জালিয়াতির শিকার হয়। গত ২৭ জুন ভোরে ক্লোন করা আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে সিম তিনটি পুনরায় উত্তোলন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় চক্রটি। পরে ওই সিমগুলোতে থাকা ২ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৮ টাকা ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে ছয়টি বিকাশ ও নগদ নম্বরে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় গত ১ জুলাই মোংলা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়। মামলা হওয়ার পরদিন তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোংলার মামার ঘাট এলাকা থেকে চক্রটির দুই সদস্য ইয়াছিন সওদাগর ও শামীম শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। শামীমের মুঠোফোন থেকে আত্মসাৎ করা ৮০ হাজার ৭৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগেরহাটের যাত্রাপুর ও ফকিরহাট এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের সহযোগিতায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আরও পাঁচজনকে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইয়াছিন সওদাগর (২১), শামীম শেখ (২৭), রাশেদ মোড়ল (২০), এহসানুল হাসান রাকিব (৩২), ফেরদাউস (২১), আশ্রাফুল ইসলাম (২৬), মেহেদী হাসান (২৯), মো. নাজমুল হাসান (২০) ও মো. মামুন গাজী (২১)। তারা বাগেরহাট, পটুয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা নয়টি স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন ও ২০টি সিমকার্ডে একাধিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ডিভাইসে সংরক্ষিত আঙুলের ছাপের ডিজিটাল নমুনাও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম বলেন, “প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রতারণার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

