সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে ফোনালাপের পর সৈকত মুখার্জী (১৮) নামে এক কলেজ ছাত্র আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতের খাবার খাওয়ার পর নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশের পর শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন।
নিহত সৈকত মুখার্জী শ্যামনগর সরকারি মহসীন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং উপজেলার বংশীপুর গ্রামের অদিত্য মুখার্জীর ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে পারিবারিকভাবে সৈকতের বিয়ে ঠিক করা হয় তার মামাতো বোনের সঙ্গে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হবু বধূকে নিয়ে কেনাকাটা শেষে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেয় সৈকত। পরে রাতে নিজ কক্ষে যাওয়ার পর তার সহপাঠী সীমা বৈরাগীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাকাটাকাটি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার সকালে সীমা বৈরাগী মোবাইল ফোনে সৈকতের খোঁজ নিতে বললে পরিবারের সদস্যরা তার কক্ষের দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নিহতের পিতা অদিত্য মুখার্জী দাবি করেন, সীমা বৈরাগীর সঙ্গে ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে পরিবারের সিদ্ধান্তে সীমার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যায়। সম্প্রতি সৈকতের বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারণ হওয়ায় সীমা বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে শুক্রবার রাতে ফোনে মানসিক চাপ সৃষ্টি করায় তার ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সীমা বৈরাগী বা তার পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় একটি (অপমৃত্যু) মামলা দায়ের করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবার মামলা করতে চাইলে ৩০৬ ধারায় (আত্মহত্যায় প্ররোচনা) মামলা রুজু হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

