বিদ্যুৎ উৎপাদনে কারিগরি ত্রুটি

রামপালে বন্ধ ইউনিট-২, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে

রামপালে বন্ধ ইউনিট-২, উৎপাদন নেমেছে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে
ছবি: আমার দেশ

ফের বড় ধরনের কারিগরি জটিলতায় পড়েছে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় রোববার দুপুর থেকে সেটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে দুই ইউনিটের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্র-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরের দিকে দ্বিতীয় ইউনিটে হঠাৎ কারিগরি সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। বর্তমানে সেটিকে ঠান্ডা করার প্রক্রিয়া চলছে। এরপর বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা ইউনিটের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করে ত্রুটির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করবেন। প্রয়োজনীয় মেরামত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে না।

বিজ্ঞাপন

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে কেন্দ্রটি জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। কিন্তু দ্বিতীয় ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে উৎপাদন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, ইউনিট-২ রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি পরীক্ষার জন্য বন্ধ করা হয়েছে। কোনো ইউনিটে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে সরাসরি মেরামতের কাজ শুরু করা যায় না। প্রথমে ইউনিটটি নিরাপদভাবে ঠান্ডা করতে হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ইউনিটটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। ত্রুটির ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ণয়ের জন্য ভারত থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসবেন। তারা সরেজমিনে ইউনিটটি পরীক্ষা করার পর মেরামতের সময়সীমা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়, কবে নাগাদ ইউনিটটি আবার উৎপাদনে ফিরবে। তবে আগামী দুই দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে কয়লা সরবরাহের ঘাটতির কারণে রামপাল কেন্দ্রে উৎপাদন কমিয়ে রাখতে হয়েছিল। কয়লা সংকট কাটিয়ে প্রয়োজনীয় জ্বালানি মজুত হওয়ার পর কেন্দ্রটি আবার পূর্ণ সক্ষমতার কাছাকাছি উৎপাদনে ফিরেছিল। জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহের সময়ই দ্বিতীয় ইউনিটে নতুন করে এই কারিগরি বিপত্তি দেখা দিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামপালের মতো বড় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কোনো ইউনিট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে চাহিদা বাড়ার সময়ে উৎপাদন কমে গেলে ঘাটতি সামাল দিতে অন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়বে। তবে ইউনিট-২ দ্রুত সচল করা গেলে জাতীয় গ্রিডে এর প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হবে।

রামপাল কেন্দ্রটি বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত। কেন্দ্রটির উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে কারিগরি রক্ষণাবেক্ষণ, কয়লা সরবরাহ এবং যন্ত্রপাতির সক্ষমতা—তিনটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কারিগরি সমস্যা ও জ্বালানি সংকটের কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

বর্তমানে কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য হলো বন্ধ ইউনিটটির ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় মেরামত সম্পন্ন করা। ভারতীয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের পরিদর্শনের পরই বোঝা যাবে সমস্যাটি কতটা গুরুতর এবং ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে কত সময় প্রয়োজন হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত রামপাল কেন্দ্রের উৎপাদন কম সক্ষমতায় চলবে এবং জাতীয় গ্রিডে এর প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন