কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গো-হাট এলাকায় বিএনপির সার্চ কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে গোলাগুলি, হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রাতে উপজেলা ধরমপুর ইউনিয়নের গোঘাট এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে এসময় ব্যাপক পরিমাণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়ন করা হয়। রাত ২টার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ সময় ৮-১০ রাউন্ড গুলি বিনিময়, দু'টি বাড়ি ও একটি মুদির দোকানে হামলা-ভাঙচুর এবং তিন লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের পাঁচজন আহত অবস্থায় ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। এক্ষেত্রে ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির দু’গ্রুপ একে অপরকে দোষারোপ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের থেকে জানা যায়, ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সার্চ কমিটির সমন্বয়ে ওয়ার্ড কমিটির ভোটার লিস্ট গঠনের প্রস্তুতি চলছিল। বৈঠক শেষ হলে নেতাকর্মীরা যে যার মত চলে যায়। ঠিক এমন সময় গোলাগুলির শব্দে চারিদিকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বিএনপির দু’টি গ্রুপ দু’দিকে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সেনাবাহিনীকে খবর দেয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এসময় সংঘর্ষে একপক্ষের বিএনপি কর্মী হামিদুল ও আরিফসহ তিনজন আহত হয়।
অপর পক্ষের বিএনপি কর্মী টিপু মেকারকে আহত অবস্থায় অন্যপক্ষ দোকানে শাটার বন্দি অবস্থায় রাখে। দু’জনকে পরবর্তীতে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিঠু বলেন, সার্চ কমিটির মিটিং চলছিল। মিটিংয়ের প্রস্তাবনা শেষে আমরা যে যার মত চলে যাচ্ছিলাম। ঠিক এমন মুহূর্তে সার্চ কমিটির সদস্য শামসুলের নির্দেশে রাজন, স্বপন, কিবরিয়া, লিমন, টিপু আমাদের কর্মীদের ওপর গুলি করে। এই সময় আমাদের দু’কর্মী আরিফের মাথায় ও হামিদুলের ডান হাতের কনুইতে গুলি লেগে আহত হয়।
তাদেরকে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি রবিউল সরকার বলেন, ধরমপুর ইউনিয়নের সার্চ কমিটির সদস্য শামসুল খুবই বেপরোয়া আচরণ করেন। তিনি তার ছেলেসহ অন্য গুন্ডাদের দিয়ে আজ আক্রমণ চালিয়েছেন। ছাত্রদল নেতা আকাশের বাড়িতে হামলার ঘটনা তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমরা কোনোভাবেই এই হামলার সাথে জড়িত না।
ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সার্চ কমিটির সদস্য শামসুল জানান, আমি ধরমপুর ইউনিয়ন বিএনপি'র সভাপতি প্রার্থী হওয়ার কারণেই মূলত আজকের এই নাটক শুরু করেছে।
সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে আজকের এই ঘটনা ঘটনা হয়েছে। মিটিং শেষে আসাদুজ্জামান মিঠু আমাকে গাড়িতে তুলে দিয়েছে। আমি চলে আসার পরেই মূলত এই ঘটনা ঘটেছে। এখানে কোনোমতেই আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ওরা মূলত আমাকে আর আমার ছেলে রাজনকে টার্গেট করেছে। আজকের এই ঘটনা মিঠু, রবিউল সরকার আর ধরমপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নান্টুন নেতৃত্বে ঘটেছে। এ সময় লালন, শুকুর, জিয়া, নিশান এরা মারামারিতে অংশগ্রহণ করেছে। তারা কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব আকাশের বাড়িতেও নির্মমভাবে হামলা চালিয়েছে। তাদের বাড়ি ও দোকানে ব্যাপক হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
ভেড়ামারা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব আকাশের বোন চাঁদনী খাতুন কেঁদে কেঁদে জানান, আমি আমার বাবার বাড়িতে বিয়ে খেতে এসেছি। লুটপাটকারীরা আমার সমস্ত গহনা,আমার বাবার উপার্জিত টাকা পয়সা জোর করে লুট করে নিয়ে গেছে। এই দেখেন আমার বাড়িতে কত ভাঙচুর করেছে। আমি এর কঠোর বিচার ও
ক্ষতিপূরণ দাবি করছি। আমার ভাই সবেমাত্র রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। কেন আমার এত বড় ক্ষতি করল? আমি এর বিচার চাই।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. পল্লব জানান, দু’জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। একজন মাথায় আঘাত পেয়েছে সেটা গুলির কোনো আঘাত নয়। অপরজন হাতের কনুইতে আঘাত পেয়েছে। এটা গুলি আঘাত কিনা স্যারদের সাথে পরামর্শ করে বলতে পারব।
ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (চলতি দায়িত্ব) রাকিবুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের গোহাট সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি সার্চ কমিটির বৈঠককে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ সময় সেনাবাহিনী এসেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সাহায্য করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পড়ে নাই। তবে পুলিশ তৎপর আছে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

