জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, লংমার্চ কেবল একটি কর্মসূচি নয়; এটি মজলুম মানবতার পক্ষে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক হুংকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গার আল ফারুক সোসাইটি মিলনায়তনে সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ‘ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া’ লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন,দেশের সাধারণ মানুষ আজ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আইনের শাসন, বাকস্বাধীনতা এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
খুলনার আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—প্রতিটি গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে এ অঞ্চলের মানুষ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে এবারও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসেছে।
৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে ‘সর্বাত্মক ও ইতিহাসের সেরা’ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, খুলনাঞ্চলের মা-বোন, ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকদের দলে দলে এতে যোগ দিতে হবে। কাটাখালী থেকে শিববাড়ি মোড় এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর পর্যন্ত খুলনার প্রতিটি সড়ক জনস্রোতে পরিণত করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলুম-নিপীড়ন, বৈষম্য ও জনগণের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে এ লংমার্চ জোরালো প্রতিবাদ। তাই দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এ কর্মসূচি সফল করতে হবে।
সভায় জানানো হয়, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-দখলদারি রোধ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় ঢাকার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর লংমার্চ খুলনার উদ্দেশে রওনা হবে এবং কুষ্টিয়ায় গিয়ে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা এতে নেতৃত্ব দেবেন বলে সভায় জানানো হয়।
লংমার্চ সফল করতে প্রস্তুতি সভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিতরণ, প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপির সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মাওলানা মো. মশিউর রহমান খান এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম, খুলনা মহানগর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, মহানগর নায়েবে আমির অধ্যাপক নজিবুর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সভায় জামায়াত, ছাত্রশিবির ও শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

