বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাদের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরা দেহ হস্তান্তর করা হয় স্বজনদের কাছে।
নিহত ১৪ জনের মধ্যে বর, তার বাবা, ভাই-বোন, ভাবি, ভাগনে-ভাগ্নিসহ একই পরিবারের ৯ জন। আজ শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ পৌঁছায় বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায়। আর কনে, তার বোন, দাদি ও নানির মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনা জেলার কয়রাও উপজেলায় তাদের নিজ বাড়িতে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১১ মার্চ বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের। কনের বাড়িতে বিয়ের পর বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বরপক্ষ মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়। বর-কনেসহ ও উভয় পরিবারের ১৪ জন ছিল মাইক্রোবাসে। তাদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি মোংলার কাছাকাছি বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হয়। আর আহত একজন জীবনমৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, বরের ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলমের (জনি) স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল), তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও আছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম। নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।
পরিবারের সূত্রে জানা যায় বর আহাদুর এর মোংলা শহরে মুঠোফোনের দোকান ছিল। কনে মার্জিয়া কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিহত আত্মীয় আবদুল আলীম বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের (বরের বাবা) আদি বাড়ি কয়রায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তাঁরা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রওনা দেন। আমার পুত্রবধূ, একমাত্র নাতিও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছে।’
বরের বাড়ি মোংলা উপজেলা পরিষদসংলগ্ন শেহলাবুনিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষের ভিড়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনার খবর শুনে আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ছাড়াও বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন। শোকাবহ সবাই জানো নিস্তব্ধ। আবদুর রাজ্জাকের বাড়ির ভেতরে রাখা হয়েছে পরিবারের নিহত নারীর মরদেহ আর বাইরে রাখা হয়েছে পুরুষদের মরা দেহ।
প্রতিবেশী শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘একসাথে এতগুলো লাশ আগে দেখিনি। এটা আমার জীবনে প্রথম আমাদের গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের ভাই সাজ্জাদ বলেন আমাদের গ্রামের বাড়ি কয়রাতে তবে আমরা মংলাতে বেড়ে উঠেছি। কিন্তু কয়রার সঙ্গে আমাদের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। কয়রায় আমার ভাই রাজ্জাকের মেয়ে ও বিবাহ দিয়েছে। এই সড়ক দুর্ঘটনায় আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেল। আমরা বিভিন্ন মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে লাল গোসল করিয়ে রেখেছি জুমার পরে জানাজার নামাজ উপজেলা চত্বরে সম্পূর্ণ শেষে, সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

