মোহনগঞ্জে টিকিট কালোবাজারির প্রতিবাদে যাত্রীকে মারধর, স্মারকলিপি

মোহনগঞ্জে টিকিট কালোবাজারির প্রতিবাদে যাত্রীকে মারধর, স্মারকলিপি
মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে ‘মহুয়া কমিউটার’ ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির প্রতিবাদ ও দৃশ্য ভিডিও করার অপরাধে এক যাত্রীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে টিকিট কালোবাজারি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে মারধরের ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী যাত্রীর নাম রিয়াদ আহমেদ (২২)। তিনি মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান গ্রামের মো. আলমগীরের ছেলে।

ভুক্তভোগী রিয়াদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, কাউন্টার খোলার আগেই আমি লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু কাউন্টার খোলার পর টিকিট মাস্টারদের পরিচিত চার-পাঁচজন ভেতরে ঢুকে সব টিকিট হাতিয়ে নেন। এছাড়া লাইনে থাকা এক নারী যাত্রীর কাছ থেকে দুটি টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জোরপূর্বক আদায় করা হয়। এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে কাউন্টারের লোকজন আমার ওপর চড়াও হয় এবং চড়-থাপ্পড় মারে। পরে তাদের ইন্ধনে ১০–১২ জনের একটি কিশোর গ্যাং এসে আমাকে কিল-ঘুষি মেরে রক্তাক্ত করে।

তিনি আরো জানান, জীবন বাঁচাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলেও পুলিশ আসার আগেই তাকে স্থান ত্যাগ করতে হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাত্রীদের বক্তব্য নিলেও সেই কালোবাজারি সিন্ডিকেট বা কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

স্টেশনের অনিয়ম সম্পর্কে ওয়ালী উল্লাহ সাদী নামের এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোহনগঞ্জ স্টেশনে টিকিট সিন্ডিকেট এখন নিত্যদিনের বিষয়। কাউন্টারে টিকিট পাওয়া যায় না, অথচ ২০০ টাকার টিকিট ট্রেন ছাড়ার মুহূর্তে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ঈদের সময়ে এই দাম আরও বাড়ে। আমরা এই অন্যায় সিন্ডিকেটের স্থায়ী প্রতিকার চাই।

সরেজমিনে সাধারণ যাত্রীরা জানান, মহুয়া কমিউটার ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে অনিয়ম ও ঝগড়াঝাটি প্রতিদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ টাকা দিয়েও টিকিট না পেয়ে উল্টো লাঞ্ছিত হচ্ছেন।

ইউএনও বরাবর স্মারকলিপি রেলওয়ের অনিয়ম ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধের দাবিতে ৩১ আগস্ট ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন ‘জুলাইযোদ্ধা’ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেত্রকোনা জেলার সংগঠক ফারহান নিয়ান তানভীর আহমেদ।

আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিন শত শত যাত্রী লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাচ্ছেন না। কাউন্টার খোলার আগেই টিকিট শেষ বলে জানিয়ে দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে দালালদের মাধ্যমে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। অনতিবিলম্বে এ ধরনের অনিয়ম তদন্তে আইডি কার্ড যাচাইসহ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

স্টেশন মাস্টারের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. জহিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনের সব টিকিট অনলাইনে বিক্রি হয়। তাই কাউন্টার থেকে সিন্ডিকেট করা অসম্ভব এবং আমার কোনো স্টাফ এর সঙ্গে জড়িত নয়। তবে কেউ যদি অনলাইন থেকে কিনে বাইরে বেশি দামে বেচে, তা ঠেকানো কঠিন। কমিউটার ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়, আমরা শুধু তদারকি করি।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন