১০ মাসের সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে শুনলেন তালাক

১০ মাসের সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে শুনলেন তালাক

১০ মাসের শিশুকন্যা রাইসা মনিকে কোলে নিয়ে মাদারীপুর থেকে নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় স্বামীর বাড়িতে এসেছিলেন সাথী বেগম (২৯)। আশা ছিল, স্বামী সুমন মিয়াকে (২৮) বুঝিয়ে আবার সংসার শুরু করবেন। তবে সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার স্বামী তাকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়ে অন্যত্র বিয়ে করেছেন।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হওয়া ও তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর পেয়ে শিশুকন্যাকে নিয়ে কেন্দুয়া থানায় আসেন সাথী। সেখানে তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন ১ অক্টোবর পুলিশ সাথী ও তার সন্তানকে সুমনের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তবে বাড়িতে গিয়ে সুমনের দেখা মেলেনি। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি নতুন স্ত্রীকে নিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।

বিজ্ঞাপন

সাথী বেগমের হাতে থাকা রেজিস্ট্রি কাবিননামা ও সুমনের পাঠানো তালাকের নোটিশ এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। প্রাপ্ত নথি ও সাথীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ইমো চ্যাট গ্রুপের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত সুমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। পরে ২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট রেজিস্ট্রি কাবিনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তাদের ১০ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

তবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৭(১) ধারা উল্লেখ করে সাথীকে একটি তালাকের নোটিশ পাঠান সুমন। নোটিশে সাথীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে বলা হয়, নোটিশ জারির ৯০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে। নোটিশের একটি অনুলিপি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যালয়ে পাঠানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে। যদিও সাথী জানান, তিনি এখনো ওই নোটিশ হাতে পাননি।

ভুক্তভোগী সাথী বেগম বলেন, “আমি যেকোনো মূল্যে স্বামীর সংসার করতে চাই। সুমন অন্যত্র বিয়ে করে থাকলেও সন্তানসহ তাকে মেনে নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমার একটাই চাওয়া—সন্তানকে নিয়ে যেন স্বামীর বাড়িতে থাকার সুযোগ পাই।”

সুমনের বাবা মোহাম্মদ হাদীস মিয়া ছেলের দ্বিতীয় বিয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমার ছেলের এই বিয়ে সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। আগে জানলে আমি তার দ্বিতীয় বিয়ে কখনোই করাতাম না।” তবে বিয়েটি কবে, কোথায় ও কার সঙ্গে হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য সুমন মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

কেন্দুয়া থানার এসআই সাঈদ জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আর কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “মেয়েটি থানায় আসার বিষয়টি আমি জানি। তবে সে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত সহায়তা দেওয়া হবে।”

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন