আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

শ্রীবরদীতে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

উপজেলা প্রতিনিধি, শ্রীবরদী (শেরপুর)

শ্রীবরদীতে বেড়েছে ভুট্টার আবাদ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলাতে গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর রেকর্ড সংখ্যক জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কৃষিনির্ভর এই উপজেলায় একসময় অধিকাংশ কৃষকই শুধুমাত্র ধান চাষাবাদ করতো। তবে ধান চাষে খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় এখন অনেক কৃষকই ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ ও কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা এখন নানারকম মাঠ ফসলের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মানুষের খাদ্য তালিকায় ভুট্টার আটার পাশাপাশি গো-খাদ্য, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও ভুট্টাদানার চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে ভুট্টার রোগ-বালাই কম হওয়ায় এবং ভুট্টার চাহিদার পাশাপাশি দাম বেশি থাকায় কৃষকরা অধিক লাভবান হতে পারে বলেই ভুট্টার আবাদ দিন দিন বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার দশটি ইউনিয়নের ১ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। উপজেলার কাকিলাকুড়া, ভেলুয়া, শ্রীবরদী সদর ও তাতিহাটি এই চারটি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভুট্টার ফলনও ভালো হবে বলে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।

কাকিলাকুড়া, কুড়িকাহনিয়া ও ভেলুয়া ইউনিয়নের ভুট্টা চাষীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিঘা প্রতি জমিতে গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ মণ ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে। যেখানে কৃষকের বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। এছাড়াও ভুট্টার কাণ্ড জ্বালানি হিসেবে ও পাতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন এবং ধান চাষের চেয়ে বেশি লাভবান হওয়ায় বর্তমানে তারা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

এদিকে সার সংকট ও সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে ডিএপি সার কেনায় এবার লাভের পরিমাণ কম হবে বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

কুড়িকাহনিয়া গ্রামের কৃষক সোলায়মান বলেন, গত বছর এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করছিলাম এবার দুই বিঘা চাষ করেছি। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় এইবার বেশি জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। এছাড়াও আমি ৫টি গরু পালন করি। দানাদার খাদ্যের দাম বেশি থাকায় আমি নিজের উৎপাদিত ভুট্টা দিয়ে গো-খাদ্য তৈরি করি, এতে খরচ কম হয়।

তাতিহাটি ইউনিয়নের কৃষক শাহিন মিয়া বলেন, এবার এক একর জমিতে ভুট্টা চাষ করছি। ভুট্টা চাষে পরিশ্রম কম ও ধান চাষের চেয়ে ভুট্টা চাষে লাভ বেশি হওয়ায় আমি ভুট্টা চাষ করি এবং আগামীতেও করব।'

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ বলেন, 'ভুট্টা অত্যন্ত লাভজনক ফসল। আন্তঃপরিচর্যা ও রোগবালাই তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় কৃষকরা বর্তমানে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছে। স্বল্প সময়ে বেশি লাভবান হওয়ায় ভুট্টার আবাদ ও ফলন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভুট্টার বহুমুখী ব্যবহার আরো বাড়ানো গেলে এ ফসলের চাষাবাদ স্থায়ীভাবে আরো বৃদ্ধি পাবে।'

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...