নেত্রকোনার মদনে বাসাভাড়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারধর ও এক বৃদ্ধার হাত ভেঙে যাওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই শিক্ষিকা ও তাদের মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার বিকেলে মদন উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর পল্লী বিদুৎ অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার স্মৃতি, তার বোন শিক্ষিকা লায়লা আক্তার লাবনী ও তাদের মা মিলন আক্তার।
ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষ এবং পুলিশ সূত্রের দাবি, জাহাঙ্গীরপুর কোর্ট ভবন এলাকায় বসবাসকারী সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেলের শাশুড়ি ক্যানসার আক্রান্ত রোকেয়া বেগম পল্লী বিদুৎ অফিস এলাকায় নিজ বাসায় থাকেন। প্রভাষকের স্ত্রী শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই মাকে দেখে যান।
এমনকি মাঝেমধ্যে মায়ের বাসায় রাত্রিযাপন করেন। রোববার বিকেলে ভাড়াটে হাফছা আক্তারকে নিজের বাসায় নিতে প্রতিবেশী আফরোজা আক্তার স্মৃতি, লায়লা আক্তার লাবনী ও মা মিলন আক্তার জোরপূর্বক কক্ষে ঢোকেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় নুসরাত জাহান ও তার মা রোকেয়া বেগম বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে ধাক্কা লেগে পড়ে গিয়ে বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমের হাত ভেঙে যায় এবং নুসরাত আহত হন।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেল বাদী হয়ে মদন থানায় পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে দুই বোন ও তাদের মাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বলেন, ‘আমার মা অসুস্থ থাকায় বাসায় কেবল ভাড়াটে ছাড়া কেউ ছিলেন না। রোববার স্কুল ছুটির পর বাসায় এসে দেখি, আমাদের ভাড়াটে যাতে তাঁদের বাসায় ভাড়া যান—এ নিয়ে তাকে মারধর করা হচ্ছে। আমি ও মা বাধা দিলে আমাদের ওপরও হামলা চালানো হয় এবং মায়ের হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এর আগেও বাসাভাড়া নিয়ে লাবনী আমার সঙ্গে স্কুলে তর্কাতর্কি করেছিলেন, যা প্রধান শিক্ষকের মধ্যস্থতায় নিষ্পত্তি হয়েছিল।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘লাবনী ম্যাডাম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার স্বামী রাতে স্কুলে গিয়ে হাজিরা খাতায় তাঁর ছুটি লিখে নেন।’
তবে অভিযুক্ত পক্ষের স্বজনদের দাবি, ‘এটি দুই পরিবারের মধ্যে বাসাভাড়া সংক্রান্ত একটি তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে তৈরি হওয়া ঝগড়া। তাদের দাবি, ঘটনাটিতে একতরফা হামলা চালানো হয়নি; বরং হাতাহাতির সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে বৃদ্ধা আঘাত পেয়েছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে বড় করে আইনি জটিলতা তৈরি করা হয়েছে বলে তাঁদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।’
স্কুলে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রসঙ্গে পশ্চিম জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার বলেন, ‘গত রোববার বাসাভাড়ার ঘটনা নিয়ে স্কুলে লাবনী ম্যাডাম ও নুসরাত ম্যাডামের মধ্যে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিল। তা আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দিই। পরবর্তীতে শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে আবেদনের ভিত্তিতে লাবনী ম্যাডামকে তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে পচিকা মহিম স্মরণিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রীনা বালা তালুকদার বলেন, ‘আফরোজা ম্যাডামের আত্মীয়স্বজন ছুটির আবেদন নিয়ে এসেছিলেন, তবে আমি তা মঞ্জুর করিনি। তিনি স্কুলে অনুপস্থিত আছেন।’
ঘটনা সম্পর্কে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা জানান, এ বিষয়ে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না; সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।
মদন থানার ওসি সালাউদ্দিন করিম বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর এজাহারনামীয় তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

