ভালুকায় বেকার হওয়ার পথে শত শত শ্রমিক

ভালুকায় বেকার হওয়ার পথে শত শত শ্রমিক

ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্যাস সংকটে ২০টি শিল্পকারখানায় কোনো কাজ নেই। শ্রমিকরা কাজে যোগদান করলেও তাদেরকে ধাপে ধাপে ছুটি দিয়ে দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এতে বেকার হচ্ছে শত শত শ্রমিক। গ্যাসের চাপ না বাড়লে কয়েকদিনের মধ্যে আরো কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভালুকা গ্যাস অফিসের আশপাশের কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কিছুটা থাকলেও দূরবর্তী কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ একেবারেই কমে গেছে।

শিল্প পুলিশ-৫-এর পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভালুকার শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করতে এলেও গ্যাসের অভাবে ২০টি কারখানার শ্রমিকদেরকে দুপুর ১২টার পর্যন্ত ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের চাপ না থাকা অন্যান্য কারখানাগুলোতেও উৎপাদন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প পুলিশের তথ্যানুযায়ী গ্যাস সংকটের কারণে ভালুকার শিল্পাঞ্চলের অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

চাহিদামতো গ্যাসের চাপ না থাকায়, কারখানার উৎপাদন বন্ধ হতে বসেছে। কোনো কোনো কারখানায় অর্ধেকেরও বেশি মেশিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন মালিক পক্ষ। সার্বিকভাবে এ অঞ্চলের প্রধান শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

শিল্প পুলিশ-৫ (ময়মনসিংহ ইউনিট)-এর হিসাব অনুযায়ী, এ অঞ্চলে মোট ২৯৩টি শিল্পকারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাস চালিত। বর্তমানে এসব কারখানাগুলো গ্যাস সংকটে ভুগছে। মালিক পক্ষ জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে সার্বিক উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক নৈতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিল্প পুলিশের তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্যাস সংকটে সবচেয়ে বেহাল অবস্থার মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল ও সুতা তৈরির স্পিনিং মিলগুলো।

ভালুকা গৌরীপুরের টোয়েটা স্পিনিং মিলসে মোট ৫০টি মেশিনের মধ্যে ৪৩টিই বন্ধ রাখতে হয়েছে। সাতটি মেশিন পিডিবি বিদ্যুতের মাধ্যমে সচল রেখে কাজ করছে। ভালুকার ভরাডোবা সীমা স্পিনিং মিলস গ্যাস সংকটের কারণে ৩০টি মেশিন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হয়েছে। যার ফলে সার্বিক উৎপাদন ৫০ শতাংশ কমে গেছে। বাশার স্পিনিং, নরটেক্স টেক্সটাইল ও ডেল্টা স্পিনার্সে উৎপাদন ৫০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলে গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ না থাকায়, ৪০ শতাংশ মেশিন বন্ধ রয়েছে। সিরামিক খাতের এক্সিলেন্ট সিরামিকসে ফার্নেস বন্ধ থাকায়, উৎপাদন নেমেছে অর্ধেকের নিচে। শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল বলেন, সকাল থেকেই গ্যাসের চাপ কমতে শুরু করে। কারখানাগুলো সাধারণত বিকাল ৫ থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত চলে।

গ্যাসের চাপ কম থাকায়, দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দিয়েছে। তবে তিতাস জানিয়েছে, বিকাল ৫টার পর গ্যাসের চাপ বাড়বে, সে সময় অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হয়তো উৎপাদন চালাতে পারবে। গ্যাস সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ও শ্রমিক ছুটি দেওয়া প্রসঙ্গে মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলেলনি।

এ ছাড়া সুলতানা সোয়েটার্স ও বিএসপি স্পিনিং মিলস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ভরাডোবা গোরি টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলসের ইউটিলিটি বিভাগের ব্যবস্থাপক সোহেল আহাম্মেদ জানান, প্রায় দেড় থেকে দুই মাস ধরে গ্যাসের চাপ কম। কারখানায় গ্যাসের ১৫ পিএসআই চাপ প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে ১১ থেকে ১২ পিএসআই। এতে উৎপাদন প্রায় তিন থেকে চার শতাংশ কমে গেছে। গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ময়মনসিংহের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন বলেন, ভালুকা এলাকার জন্য ১৪০ ও ১৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

কিন্তু বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস। সরবরাহ কম পাওয়ায়, গ্যাসের চাপ কমে গেছে। এভাবেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন