ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি আসনেই পুরুষ ভোটারের চেয়ে সংখ্যায় এগিয়ে নারী ভোটাররা। তাই নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন এসব নারী ভোটার। নারী ভোট টানতে প্রার্থীরা নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণের চাবি নারী ভোটারদের হাতে।
জেলার পাঁচটি আসনে ৩১ পুরুষ প্রার্থীর মধ্যে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে নারী প্রার্থী ফারজানা ফরিদ পুঁথি ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
নারী ভোটাররা বলছেন, আমাদের অধিকার তো দূরের কথা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো সরকারই। ভোট সামনে রেখে প্রার্থীরা নারীদের নিয়ে নানা আশ্বাসের বাণী শোনাচ্ছেন। ভোট আদায়ের জন্য সেসব কথা প্রতি নির্বাচনের আগে আমরা শুনি। ভোটের পর তারা সেসব কথা বেমালুম ভুলে যান বলে আক্ষেপের সুরে বললেন নারী ভোটাররা।
তারা বললেন, এবার বুঝে-শুনে ভোট দেব। যে প্রার্থী বা যে দল নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, আমরা তাকেই ভোট দেব। জেলার পাঁচটি আসনে মোট ভোটার ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭ জন। এর মধ্যে মোট পুরুষ ভোটার ১০ লাখ ৫৪ হাজার ১২৯ জন এবং মোট নারী ভোটার ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪১ জন।জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণের পরিচিত মুখ চায়ের দোকানি মমতাজ। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক কাপ চা বিক্রি করলেও তার সংসারের ভাগ্য বদলায়নি। তাই নির্বাচন এলেও তার জীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না বলে জানান এই নারী।
চা তৈরি করতে করতে মমতাজ বেগম বলেন, ‘আজকে ১৫ বছর ধরে চা বিক্রি করছি। লাভ-লোকসান বুঝি না; পোলাপান নিয়ে চলি, পোলাপান নিয়ে খাই। এবার ভোটাভুটি আসছে। এখন ভোট দিব কি না দিব, এটাও বলতে পারি না। সরকার যে-ই আসুক, আমাদের যে কপাল ওই কপালই।’
জামালপুর-৩ আসনের ভোটার শামীমা নাসরিন সুপ্তি বলেন, ‘এখানকার প্রান্তিক পর্যায়ের মেয়েরা অনেকটাই গৃহবন্দি এবং তারা নিজেরা কিছু করার সুযোগ পাচ্ছে না। মেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগটা সৃষ্টি করতে হবে।’
জামালপুর-২ আসনের ভোটার রানী ইসলাম বলেন, ‘অনেকবার দেখলাম, নারী ভোটারদের কোনো প্রাধান্য দেওয়া হয় না। জামালপুরে যেহেতু নারী ভোটার বেশি, তাই যারা আমাদের প্রাধান্য দেবে, তাদেরই আমরা ভোট দেব।’
জামালপুর-৪ আসনের নারী ভোটার আয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘যারা নারীদের অধিকার ও নির্যাতন নিয়ে কাজ করবেন এবং নারীদের পাশে থাকবেন, ওই ধরনের যদি কোনো প্রার্থী পাই, তাহলে তাদের ভোট দেব।’
নারীদের ভোটের বিষয়ে জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব বলেন, ‘জামালপুরে নারী ভোটাররা বিএনপির পক্ষে ধানের শীষে ভোট দিলে এই দেশে আগামী দিনে উন্নয়নের যে বিপ্লব ঘটবে, সেই বিপ্লবে নারীদেরও সম-অধিকারের ভিত্তিতে এগিয়ে নেব।’ জামায়াতে ইসলামী জামালপুর শহর শাখার আমির মো. আল ইমরান সুজন বলেন, ‘আমরা পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ভোটকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছি এবং নারীদের কাছে যাচ্ছি। আমরা ময়দানে নারীদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

