ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ছোট বারইহাটি গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে এবং গফরগাঁও-বরমী আঞ্চলিক সড়কের জমি অবৈধভাবে খনন করে মাছের খামার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ছোট বারইহাটি গ্রামসহ আশপাশের তিন-চারটি গ্রামের কয়েকশ কৃষকের ফসলের জমিতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলার টাংগাব ইউনিয়নের বাশিয়া গ্রাম থেকে শুরু হওয়া কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ বৌমরা খালটি টাংগাব ইউনিয়নের পাঁচাহার, দ্ওায়াদাইর, নিগুয়ারি ইউনিয়নের সাধুয়া, ছোট বারইহাটি গ্রাম হয়ে চার্মুতা গ্রামের সুতিয়া নদীতে পতিত হয়েছে। অনেক জায়গায় এ খালটি শুকলাইন হিসেবেও পরিচিত। এ পাঁচ-ছয়টি গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক কৃষকের ফসলি জমির পানি বর্ষায় এ খাল দিয়ে সুতিয়া নদীতে পতিত হয়। শুষ্ক মৌসুমে এ খালের পানি কৃষক তাদের ফসলি জমিতে সেচকাজে ব্যবহার করে। বাঁধ দিয়ে খালটি ভরাট করে ফেলায় খালের দুই পাড়ের হাজার হাজার কৃষক চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
গতকাল রোববার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ছোট বারইহাটি গ্রামের আ. লীগ কর্মী আবুল কাশেম ওরফে ভেকু কাশেম নামে এক ব্যক্তি এক্সকাভেটর দিয়ে খাল ভরাট করেছেন।
এছাড়াও তিনি তার লোকজন দিয়ে গফরগাঁও-বরমী সড়কের ভূমি দখল করে খনন করেছেন গভীর পুকুর। আর দখল করে ভরাট করা খালকে বানিয়েছেন পুকুরের পাড়। খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে অবৈধ দখল উচ্ছেদে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ছোট বারইহাটি গ্রামের কৃষক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য লিয়াকত আলী বলেন, বৌমরা খালের অন্তত ২০০ ফুট পর্যন্ত দখল করে মাটি ভরাট করে দখল করেছেন আবুল কাশেম। এছাড়াও তিনি অভিযোগে জানান, খালের পাশে থাকা তাদের অন্তত ১০ শতাংশ জমিও দখল করেছেন কাশেম ।
উক্ত এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ মান্নান জানান, বৌমরা ও শুকলাইন খাল দখল করে দেড় থেকে দুইশ ফুট ভরাট করেই ক্ষান্ত হয়নি কাশেম। পাশেই গফরগাঁও-বরমী সড়কের অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে বানিয়েছেন বিশাল গভীর পুকুর। একই গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হুসেন আলী আবুল কাশেমকে ভূমিদস্যু আখ্যা দিয়ে বলেন, খাল ভরাট ও অধিগ্রহণের জমিতে অন্তত ৩০ ফুট গভীর করে পুকুর খনন করায় যেকোনো সময় ধসে যেতে পারে গফরগাঁও-বরমী সড়ক ।
খোকন শেখ নামে স্থানীয় এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এ খাল দুটি দিয়ে হাজার হাজার কৃষকের পানি নিষ্কাশন হয়। সেই খাল ভরাট করে পুকুরের পাড় তৈরি করেছেন কাশেম। এর ফলে বর্ষাকালে অতি বর্ষণে শত শত কৃষকের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে সেচকাজ ব্যাহত হতে পারে।
মো. আবুল কাশেম বলেন, তিনি কোনো খাল দখল করেননি। তিনি তার নিজের জায়গা ভরাট করেছেন । নিজের জায়গা খনন করে পুকুর তৈরি করেছেন।
স্থানীয় নিগুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনএম আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করার কোনো সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে এসিল্যান্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

