ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) ছাত্রাবাসে মোটরসাইকেলে তেল আনা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আবদুল্লাহসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে নতুন একটি মামলা করা হয়েছে।
বুধবার ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়।
পুলিশ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল রাতে নগরের বাঘমারা এলাকায় অবস্থিত মমেক ছাত্রাবাসে এমবিবিএস ৬১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মীর হামিদুর রহমানের সঙ্গে তেল আনার বিষয়কে কেন্দ্র করে মো. আমানুল্লাহ মুয়াজের বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় লোহার পাইপ দিয়ে হামিদুর রহমানের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীকালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে মুয়াজকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতেই নাফিউল ইসলাম হাতুড়ি দিয়ে মুয়াজের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ নাফিউল ইসলামকে আটক করে।
আহত মীর হামিদুর রহমান ও আমান উল্লাহ মুয়াজকে প্রথমে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মুয়াজকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আহত মীর হামিদুর রহমানের চাচা মীর মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বুধবার মামলা করেন। মামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন আমানুল্লাহ মুয়াজকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে, যার মধ্যে মমেক ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আবদুল্লাহও রয়েছেন।
এর আগে, ১৮ এপ্রিল রাতে একই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আহত মুয়াজের বড় ভাই আহমদ শফি মীর হামিদুর রহমানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
ঘটনার পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াদ রুতাপ ও নাফিউল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শিবিরুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসের ঘটনায় নতুন করে আরও একটি মামলা হয়েছে। এতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আগের মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

