দুর্গাপুরে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া

দুর্গাপুরে রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের খোয়া

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শুরুর পর থেকেই সড়কটিতে রাবিশ মেশানো (আবর্জনা ও বালু মিশ্রিত) ও অত্যন্ত নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি কোদাল দিয়ে সড়কের খোয়া খুঁড়লে খোয়ার চেয়ে রাবিশের পরিমাণই বেশি বেরিয়ে আসছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার কাঁকৈরগড়া ইউনিয়নের বড়বাট্রা গ্রামের দুলাল মিয়ার দোকান থেকে নয়ন মিয়ার পুকুরপাড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৭ লাখ ১২ হাজার ৩০৫ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সমীরণ চৌধুরী’ এই কাজটি পেয়েছে।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটির চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর একই বছরের ডিসেম্বরে কাজ শুরুর লিখিত আদেশ দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে এই নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির নির্মাণকাজ বর্তমানে মেকাডম পর্যায়ে রয়েছে। এক কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৪৫০ মিটার অংশে মেকাডম করা হলেও এর বেশিরভাগ অংশেই রাবিশ বা ময়লা মেশানো খোয়া দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সড়কের এজিং বা কিনারে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের ইট।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রাস্তায় যে রাবিশ মেশানো খোয়া দেওয়া হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত নিম্নমানের। এই রাস্তাটা এইভাবে কইরা গেলে ৩/৪ মাসেই শেষ অইয়া যাইব।’ আরেক বাসিন্দা সোলাইমান কবির বলেন, ‘খোয়ার মধ্যে খুব নিম্নমানের খোয়া পাইতেছি আমরা, যা আঙুল দিয়ে চাপ দিলেই ভাইঙা ফেলা যায়। কাজগুলো যে নিম্নমানের হচ্ছে সেটা দেখে আমরা প্রতিবাদ করি, কিন্তু কোনো ফল পাই না। উল্টো আমাদের ধমক শুনতে হয়।’

অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আব্দুল হান্নানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বালু মেশানো খোয়া ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

পরবর্তীকালে প্রকল্পের মূল ঠিকাদার সমীরণ চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার জানামতে আমি কোনো খারাপ মাল দিয়ে কাজ করিনি। আপনি গিয়ে দেখেন আমরা কোনো খারাপ মাল দিয়েছি কি না। অভিযোগ তো আসতেই পারে। কেউ অভিযোগ করলে আমি তো না করতে পারব না।’

এ বিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘বালুর সঙ্গে খোয়া মেশানো কিছু খোয়া পড়েছে শুনে আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং বালু মেশানো খোয়া সরানোর জন্য বলা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ‘আমাদের নির্বাহী প্রকৌশলী ল্যাব থেকে লোক পাঠিয়েছিলেন। তারাও এসে বিষয়টি দেখে গেছেন এবং খোয়ার স্যাম্পল (নমুনা) নিয়ে গেছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বর্তমানে রাস্তার কাজ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন