জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় বোরো ধান, পাট, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাঠজুড়ে আধাপাকা ও কাঁচা ধান নুয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও জমে থাকা পানিতে ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে সোনালি ধান। এতে ফলন বিপর্যয়ের পাশাপাশি ধান ঘরে তোলা নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার ৫৬০ হেক্টর বোরো ধান, ৫০ হেক্টর সবজি, ৩৫০ হেক্টর পাট, ১২০ হেক্টর ভুট্টা এবং কিছু কলাক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪০ হেক্টর ধান, ৭৫ হেক্টর পাট, এক হেক্টর সবজি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পাশাপাশি লিচু ও কাঁচা আম ঝরে পড়েছে।
শুক্রবার সকালে উপজেলার তারতাপাড়া, জোড়খালী, গাবেরগ্রাম ঝালুপাড়াসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বোরো ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। আবার কোথাও ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে। জীবন-জীবিকার শেষ ভরসা রক্ষায় কৃষকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকরা কেউ হাটু, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে নেমে আধাপাকা ধান কাটছেন। আবার অনেকে জমিতে নুয়ে পড়া চার-পাঁচটি ধানের গোছা একসঙ্গে করে হুরা বাঁধছেন, যাতে বাতাসে হেলে না পড়ে।
মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম ঝালুপাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল গফুর বলেন, দেড় বিঘা জমিতে বোরো ধান করেছিলাম। কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। ধান তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছি। এতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।
আরেক কৃষক জাহিদুর রহমান বলেন, পানিতে খেত ডুবে গেছে। দ্রুত ধান না তুললে আরও ক্ষতি হবে। তাই বাধ্য হয়ে আধাপাকা ধান কাটতে হচ্ছে।
গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এলাকার ভুট্টাচাষি আব্দুল লতিফ বলেন, জমি থেকে ভুট্টা তোলার আগমুহূর্তে এমন টানা বৃষ্টি হবে, তা ভাবিনি। ঝড়ে ভুট্টার গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে। ভুট্টার মোচায় পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
আরেক কৃষক হোসেন আলী জানান, ভুট্টা মাড়াই করে ঘরে তোলার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে অনেক ভুট্টা ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জমির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছেন।
তিনি বলেন, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন ও নুয়ে পড়া পাকা ধান দ্রুত কেটে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ এবং নুয়ে পড়া কাঁচা ধানের চার-পাঁচটি গোছা একসঙ্গে করে সোজা করে বেঁধে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

