ভাঙ্গুড়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সাংবাদিককে মারধর

উপজেলা প্রতিনিধি, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)

ভাঙ্গুড়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সাংবাদিককে মারধর
ছবি: আমার দেশ

ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুলকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ভাই শরীফ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌরশহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী সাংবাদিক পিপুল ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

বিজ্ঞাপন

পিপুল দৈনিক যুগান্তরের ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং বাংলা ট্রিবিউন-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলার পাথরঘাটা (রোকনপুর) গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামী (২৩) কে হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন শিশু কুঞ্জ থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় কলেজপাড়া এলাকার ছাত্রদলের ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন যুবক। পরে তাকে ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় পাবনা শহরে অবস্থান করা সাংবাদিক পিপুল মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে ভাঙ্গুড়া থানার ওসিকে জানিয়ে দ্রুত সাহায্য কামনা করেন। ওসি তাৎক্ষণিক থানার এসআই আল-আমিন হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিক পিপুলের ছোট ভাইকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

সাংবাদিক শাহিবুল ইসলাম পিপুল বলেন, ওই ঘটনা নিয়ে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করেই পরবর্তীকালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মোবাইলে বাহার নামে এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে তার অবস্থান জেনে নেয় এবং ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে।

এরপর তিনি ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিসমিল্লাহ হোটেলের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করে। তিনি তার পরিচয় দিলে ওই দুই ব্যক্তি বলে যে, আমরাই তোর ভাইকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলাম, তুই ফেসবুকে কি লিখেছিস বলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় আরেকটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন দিয়ে নিজেকে ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজের ছোট ভাই শরিফ বলে পরিচয় দেয়। সে জানতে চায় তুই কোথায় আছিস। তার অবস্থান ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড বলে জানালে শরিফ ও অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জন এসে পিপুলকে মারধর করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শরীফ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে পিপুলের ভাই সামি আমাদের তিনজন ছেলেকে মেরে হাসপাতালে পাঠিয়েছিল। আজকে তারা সামিকে জিজ্ঞাসা করছে ওই সময় কেন তাদের ক্ষতি করেছিল। খবর পেয়ে আমি সেখানে যাই। গিয়ে দেখি থানা পুলিশও সেখানে আছে। পিপুলের ভাইকে একটা টোকাও দেয়া হয়নি। অথচ সে ফেসবুকে আমাদের বেদেপাড়ার ছেলেপেলে বলে কটাক্ষ করে পোস্ট দিয়েছে।

পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কিন্তু আমার ভাই মারামারির করার মতো ছেলে না। আমি অন্যায়কে কখনও প্রশ্রয় দেই না। ঘটনার সঙ্গে আমার ভাই জড়িত নয়। ছাত্রদলের ছেলেদের সঙ্গে আগে ছাত্রলীগের একটা ঝামেলা ছিল। সেটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আবার সেটা সমাধান হয়ে গেছে পুলিশের উপস্থিতিতে।

মূলত পিপুল ফেসবুকে নাকি জাতি তুলে একটা পোস্ট দেয়। সেটা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তবে মারামারি হয়নি। আমি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করার চেষ্টা করছি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন