৯ মার্চে নেত্রকোনা জেলার মদন, আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলার আনুমানিক ৫ হাজার মৎস্য শিকারি খালিয়াজুরী উপজেলার ইজারাকৃত নদী ও বিলে মাছ শিকার করতে আসেন।
তখন ধনু নদীর খেয়া পারাপারকে কেন্দ্র করে তাদের বাগবিতণ্ডা হয় স্থানীয়দের সঙ্গে। একপর্যায়ে মৎস্য শিকারিরা রসুলপুর বাজারে লুটপাট চালায়। এ সময় গ্রামের নারীদের শ্লীলতাহানিও করে তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তখন মসজিদের মাইক থেকে এদের প্রতিহত করার আহ্বান জানানো হয়। মাইকের ঘোষণা শুনে রসুলপুর ও জগন্নাথপুর গ্রামবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে।
ওই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়। সোমবার বিকাল ৩টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধনু নদীর আশাকোনা ও নাওটানা থেকে নিহত তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। সংঘর্ষে প্রায় তিন শতাধিক মাছ শিকারি ও স্থানীয় মানুষ আহত হয় বলে জানা যায়।
খালিয়াজুরী থানার সূত্রে জানা যায়, নিহতরা হলেন কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে হৃদয় মিয়া (৩০), আটপাড়া উপজেলার রূপচন্দ্রপুর গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে শহীদ মিয়া (৫৫) ও মদন উপজেলার বাগজান গ্রামের কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রোকন মিয়া (৫২)।
এদিকে এই ঘটনায় জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামে আক্রমণ করার জন্যে গতকাল রাতে মদন উপজেলার মাছ শিকারিরা মাইকিং করে। পরে সবাইকে শান্ত হতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে মাইকিংয়ের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামবাসী নির্ঘুম রাত কাটায়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
খালিয়াজুরী থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতদের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

