বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নান্দাইলে ১৪৪ ধারা

ময়মনসিংহ অফিস

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে নান্দাইলে ১৪৪ ধারা

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে উপজেলা প্রশাসন খারুয়া বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজারে এ সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) এবং র‍্যাব-১৪ এর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংঘর্ষে জড়িত শওকত আলী ও আব্দুর রউফ উভয়েই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং এলাকায় প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়ালি উল্লাহ বলেন, শওকত আলী ও আব্দুর রউফ বিএনপির রাজনীতি করেন। আব্দুর রউফ স্থানীয় এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর গ্রুপ করেন।

জানা যায়, উপজেলার খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলীর মধ্যে প্রায় ৩০ বছর ধরে ২ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ সংক্রান্ত একটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সকালে শওকত আলী বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে আব্দুর রউফ তা ভেঙে দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকালেই পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুর রউফের সমর্থকরা আবুল কাশেম (বিডিআর) ও জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে শওকত আলীর ভাই লিয়াকত আলীর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এর জেরে শওকত আলী, লিয়াকত আলী, রাজু আহমেদ ওয়াজেদসহ তাদের সমর্থকরা খারুয়া বাজারে জড়ো হন। একপর্যায়ে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, বাঁশের লাঠি ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। আব্দুর রউফের মুদি দোকানেও হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

আব্দুর রউফের ছেলে মাহফুজুর রহমান বলেন, আমাদের নিজস্ব জায়গায় জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা বাধা দিলে প্রতিপক্ষ আমাদের দোকানপাট ভাঙচুর করে এবং প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে শওকত আলী দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি। সেখানে বৈধভাবে ঘর নির্মাণ করছিলাম। আব্দুর রউফ লোকজন নিয়ে ঘরটি ভেঙে দেন। পরে আবুল কাশেম ও জহিরুল ইসলাম রতনের নেতৃত্বে আমার ভাইয়ের দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকাল থেকে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বৃহস্পতিবার সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

নান্দাইলের ইউএনও ফাতেমা জান্নাত বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে খারুয়া বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন