‘ভবিষ্যতের ঝামেলা দূর করতে আমি তাকে বিষ খাইয়েছি। ফসলি ক্ষেতে দেওয়ার কীটনাশক চামচে করে ওর মুখে দিয়ে দিই। পরে সে কাতরাতে কাতরাতে মরে যায়।’ ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আড়াই বছর বয়সি শিশুসন্তান ওয়াসকুরুনিকে বিষ খাইয়ে হত্যার পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এমন লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন ঘাতক সৎমা আকলিমা খাতুন।
শুক্রবার ময়মনসিংহের ৪নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমার আদালতে হাজির করা হলে আকলিমা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। আদালতে আকলিমার এই জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার। তিনি জানান, আসামি আকলিমা খাতুন নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতের কাছে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর দত্তবাড়ী গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিশু ওয়াসকুরুনি বীরপুর গ্রামের আব্দুল কাদিরের প্রথম স্ত্রীর সন্তান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আকলিমা তার জবানবন্দিতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তানের প্রতি তার তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তার নিজ ভবিষ্যতের ঝামেলা দূর করার চিন্তা থেকেই তিনি শিশুটিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
গত মঙ্গলবার দুপুরে ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে ফসলি জমিতে ব্যবহারের জন্য ঘরে এনে রাখা তরল কীটনাশক চামচে করে জোরপূর্বক শিশুটির মুখে ঢেলে দেন তিনি। এতে বিষের যন্ত্রণায় শিশুটি ছটফট করতে করতে কিছুক্ষণের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ঘটনার সময় শিশুটির কাশির শব্দ শুনে দাদি আছিয়া আক্তার ঘরে প্রবেশ করলে ঘটনাটি আড়াল করতে আকলিমা শিশুটিকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকেন।
তবে দাদি ঘরে ঢুকে বিষের গন্ধ পান, এতে সন্দেহ হলে শিশুটিকে কোলে তুলে বাইরে নিয়ে এলে তার মুখ থেকেও তীব্র বিষের গন্ধ পান। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার নিহত শিশুর জন্মদাত্রী মা মোছা. শেফালী আক্তার বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘাতক সৎমা আকলিমা খাতুন এবং জড়িত সন্দেহে বাবা আব্দুল কাদিরকে গ্রেপ্তার করেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

