ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় খাল খননে অনিয়ম দুর্নীতি ও শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি শ্রমিকদের কাছ থেকে ব্যাংকের চেকে অগ্রীম স্বাক্ষর নিয়েছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
গ্রামীণ জনপদের বেকার ও অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নে খাল খনন প্রকল্পে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিন ব্যবহার করে খননকাজ করছেন ঠিকাদার। বিষয়টির তদন্ত দাবি করে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের নীতিমালা উপেক্ষা করে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে খননকাজ চালানো হচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রকল্পে ৫৯৫ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে হাতে গোনা কয়েকজন লোককে কাজের তদারকি করতে দেখা গেছে। এমনকি শ্রমিকদের কাছ থেকে ব্যাংকের চেকে অগ্রীম স্বাক্ষর নিয়েছেন প্রকল্প কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার দবরদস্তা-মলঙ্গী (মঙ্গলী) খালে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় দেড় মাস ধরে মেশিনেই অধিকাংশ কাজ চলছে। খালের বিভিন্ন অংশে এখনো পানি জমে রয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে তলদেশ খনন কতটা হয়েছে, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কারের জন্য সারাদেশে ৪২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ৬৩ জেলার ২৪৯ উপজেলায় ৩৭৬টি খাল সংস্কার প্রকল্প অনুমোদন পায়।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার দবরদস্তা-মলঙ্গী খাল পুনঃখনন প্রকল্পটি অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫২ হাজার ৭৭৫ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ১০ কিলোমিটার খাল খননের পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ, বক্স কালভার্ট, আরসিসি পাইপসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
খালের পাশে কাজের তদারকিতে থাকা মুন্না মিয়া বলেন, আমরা তিনজন এখানে কাজ করি। প্রতিদিন পিআইও অফিসের লোকজন আমাদের ৮০০ টাকা করে দেন। সরকারি তালিকাভুক্ত কোনো শ্রমিক এখানে কাজ করছেন না। প্রকল্পে শ্রমিক থাকার কথা শুনলেও বাস্তবে কাউকে দেখিনি।
কৃষিশ্রমিক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, এলাকার শ্রমিকদের কাছ থেকে এনআইডি কার্ড নিয়েছে পিআইও অফিসের লোকজন। এমনকি তাদের ব্যাংক একাউন্ট করিয়ে তাদের কাছ থেকে চেক বইয়ে স্বাক্ষর করে বই নিয়ে গেছে প্রকল্প কমিটির লোকজন।
প্রকল্পের শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম বলেন, যেদিন সরকারি অফিসাররা কাজ দেখতে আসেন সেদিন শুধু কাজের জন্য ডাকে। এ পর্যন্ত দুই তিনদিন কাজ করেছি। আমার কাছ থেকে ব্যাংকের খালি চেকে স্বাক্ষর নিয়েছে সরকারি লোকজন। এ পর্যন্ত নগদ এক হাজার টাকা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
মলঙ্গী খাল প্রকল্প কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, খাল খনন কাজে শ্রমিকের সংখ্যা কম বেশি হয়। ৫৯৫জন শ্রমিকের মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ১০০জন শ্রমিক কাজ করে বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে শ্রমিকদের ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এবিষয়ে কথা বলতে চাননি তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. সাইদুল হক বলেন, নিয়ম মেনে ভেকু মিশিন দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। শ্রমিকের সংখ্যা নিয়ে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যখন বিল দেয়া হবে তখন তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্পের কাজ নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

