অনুমতি ছাড়া শৃঙ্খলা বহির্ভূতভাবে গোপন মিটিং

মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ

উপজেলা প্রতিনিধি, মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা)

মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শোকজ
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স । ছবি: আমার দেশ

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার অফিস চলাকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া হাসপাতালের হলরুমে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলাবহির্ভূতভাবে কিছু ডাক্তার, কর্মকর্তা ও নার্স গোপন মিটিং করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে এই শোকজের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

জেলা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা নঈম স্বাক্ষরিত ২৩ সেপ্টেম্বরের ওই চিঠি গত ২৬ সেপ্টেম্বর মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে পৌঁছায়। শোকজের জবাব আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজে উল্লেখ করা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন, বিদ্রোহ, চেইন অব কমান্ড বিনষ্ট, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কনফারেন্স রুম দখল, সরকারি সম্পদের অবৈধ ব্যবহার, জমায়েত ও সভার আয়োজন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাদের শোকজ করা হয়েছে।

শোকজপ্রাপ্তরা হলেনÑ১১ জন মেডিকেল অফিসার: ডা. পার্থ সরকার, ডা. জান্নাতুল নেছা, ডা. মো. সায়েম, ডা. রাকিবুল ইসলাম, ডা. মো. অন্তিম হাসান, ডা. জয়া রানী দেবনাথ, ডা. মৌমিতা দাস, ডা. লিজা সরকার, ডা. পার্থ প্রতিম সেন, ডা. সৌরভ আহমেদ শাকিল ও ডা. মেহেদী হাসান পিয়াস।

৯ জন নার্স: রেহেনা আক্তার খানম, মনি আক্তার, রীনা রাণী পাল, মনিরা আক্তার, সাবিকুন্নাহার, হিমা আক্তার, উম্মে হাবিবা সরকার, নূরে ফারজানা ও জান্নাতুল ফেরদৌস।

অন্যান্য: মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) নাজমুল ইসলাম, এমটি ল্যাব রেজুয়ান করিম রাজু, ফার্মাসিস্ট বাহারুল্লাহ, হিসাব রক্ষক শামছুল হুদা, ৪ জন স্যাকমো- শহীদুর রহমান, বিপ্লব হোসেন, শাহজাহান সিরাজ, আলমগীর হোসেন, সিএইচসিপি মুশফিকুর রহমান বকুল ও অফিস সহায়ক মো. মুকুল।

এ বিষয়ে যারা কারণ দর্শানোর নোটিস পেয়েছেন, তাদের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে তারা বিস্তারিত বলতে নারাজ। তবে তারা জানান, কারণ দর্শানোর নোটিস মানেই কোনো ব্যক্তি এ দোষে দোষী নয়। তারা যথাসময়ে নোটিসের জবাব দেবেন বলে জানান।

হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির দৌরাত্ম্য

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিদিন হাসপাতালে রোগী দেখার সময় বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের একটা মিলন মেলা জমে। তারা ডাক্তার এবং রোগীর চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকেন, যাতে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। রোগীরা নিজেদের সমস্যার কথা ডাক্তারের কাছে বলতে দ্বিধাবোধ করেন।’

রোগীদের ক্ষোভ:

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। রাসেল নামে এক রোগী বলেন, ‘হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর টিকিট নেওয়ার সারিতে সাধারণ নারী-পুরুষ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নেয়। কিন্তু কিছু লোক লাইন ছাড়াই ভিতরে প্রবেশ করে টিকিট নিচ্ছে। ডাক্তারের কাছে ৫টা সমস্যার কথা বললে একটা সমস্যার জন্যই ৩টি করে ওষুধের নাম লিখে দেয়। আবার হাসপাতাল থেকে বলে ওষুধ নেই।

শামীমা আক্তার নামে আরেক মহিলা রোগী বলেন, ‘জানি হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু অধিকাংশ পরীক্ষা বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকে করতে হয়। তাও আবার তাদের কাগজে লিখে দেওয়া ক্লিনিক ছাড়া অন্য ক্লিনিকে পরীক্ষা করা নিষেধ।’

হাসপাতালে ভর্তি রোগীরা জানান, পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় ওয়ার্ড ও ওয়াশরুম নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। এতে নোংরা ও দুর্গন্ধ দিন বাড়ছে। ওয়াশরুমে এত দুর্গন্ধ যে যাওয়া যায় না। ওয়াশরুমের পাশেই ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। এছাড়া তারা হাসপাতালের আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অলক কান্তি তালুকদার বলেন, ‘সিভিল সার্জনের স্বাক্ষরিত চিঠি শনিবার পেয়েছি। এরপর সংশ্লিষ্ট ৩০ জনকে তাদের বিভাগ থেকে স্বাক্ষর করে চিঠি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। যে ৩০ জনের নামে নোটিশ আসছে, তাদের মধ্যে কারা গোপন মিটিং করেছে, কী উদ্দেশ্যে করেছে, তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন