১০ জনের যাবজ্জীবন

ময়মনসিংহে কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় ৩ সহোদরের মৃত্যুদণ্ড

ময়মনসিংহে কৃষক শফিকুল হত্যা মামলায় ৩ সহোদরের মৃত্যুদণ্ড
ছবি: আমার দেশ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন সহোদর হলেনÑনান্দাইলের চর লক্ষ্মীদিয়া এলাকার আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মোজাম্মেল হক স্বপন (৪৬), আপন মিয়া (৪৩) ও রিপন মিয়া (৪১)।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑমৃত ইসমাইলের ছেলে আবু বকর সিদ্দিক (৭১), তার ছেলে কাঞ্চন মিয়া (৩৬), নজরুল ইসলামের ছেলে রুবেল (২৯), মৃত মজিবরের ছেলে পারভেজ (৩১), মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫৬) ও কাশিদ (৫৯), মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩১), কাশিদের ছেলে সুমন মিয়া (৩৬) ও নয়ন মিয়া (২৯) এবং খোকন মিয়ার ছেলে আসাদুল (২৯)।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নান্দাইল উপজেলার চর ভোলামরী এলাকার হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবির সঙ্গে আসামিদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় শফিকুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।

এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে শফিকুল ইসলাম সবিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে তিনি মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলায় আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বিচারিক কার্যক্রমে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, তাদের জেরা এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিদের অধিকাংশ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুল পলাতক রয়েছেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল। আসামিপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ কে এম আমানউল্লাহ বাদল।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...