রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তায় পৌঁছেছে ইউরেনিয়াম। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি রূপপুর প্রকল্পে প্রবেশ করে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) ড. করিব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়া থেকে ভারত হয়ে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে চালানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সড়কপথে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নেওয়া হয়।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) প্রণব কুমার সরকার আমার দেশকে বলেন, ঈশ্বরদীর মুলাডুলি থেকে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের অভ্যন্তরে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর দেশে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে আসার পথে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে চালানটি আনা সম্ভব হয়নি। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় নতুন সূচিতে শুক্রবার চালানটি দেশে পৌঁছায়।

রোসাটমের সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুরের দুই ইউনিটের জন্য আরও পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আসবে। মোট ৯টি ফ্লাইটে প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ শুরু হয়। দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম চালান পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে এবার ওই ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের নতুন পর্যায় শুরু হলো।

এদিকে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি ইউনিটটির সেফটি ভাল্বের ১৬ মেগাপ্যাসকেল উচ্চচাপ পরীক্ষা সফল হয়েছে। ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে যাওয়ার আগে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাকি রয়েছে। এসব পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার কথা।

রাশিয়ার পক্ষ থেকে দেওয়া পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে পরিবহন-সংক্রান্ত জটিলতায় সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। এর আগে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে কয়েক দফা জ্বালানি আসার সময় পিছিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ (বায়রা) কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. মাহমুদুল হাসান বলেন, নির্ধারিত রুটে অনুমতি না পাওয়া গেলে চীন হয়ে বিকল্প পথে জ্বালানি আসতে পারে। যে পথেই আসুক, জ্বালানি গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর এক থেকে দেড় বছর পর কিছু ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সেই অতিরিক্ত জ্বালানিই এবার বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় জ্বালানি পরিবহনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এদিকে জ্বালানি আসার পাশাপাশি রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের চেষ্টার পর প্রথম ইউনিটের অটোমেটিক প্রেশার রিলিফ ভালভের প্রথম ধাপের পরীক্ষা সফল হয়েছে। ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে এ পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এখন ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরবর্তী পরীক্ষা হবে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানায়, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানিও বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রথম ইউনিটের অতিরিক্ত জ্বালানি দেশে পৌঁছানো এবং গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় রূপপুর প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন