আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চাল সরবরাহে টনপ্রতি ঘুষ দাবি, ক্ষোভে ফুঁসছেন মিল মালিকরা

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

চাল সরবরাহে টনপ্রতি ঘুষ দাবি, ক্ষোভে ফুঁসছেন মিল মালিকরা
ছবি: আমার দেশ।

বগুড়ায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে চালকল মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে জেলা অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতি। গুদামে চাল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি টন চালের বিপরীতে ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগে মিল মালিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ২৮ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আমন মৌসুমে ধান ও চাল ক্রয়-সংগ্রহ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৯ ডিসেম্বর বগুড়া খাদ্য ভবনে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে জেলার ১২ উপজেলার চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিতিতে বগুড়া সদর গুদাম কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম টনপ্রতি উক্ত অর্থ প্রদানের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্মারকলিপিতে বলা হয়, মিল মালিকরা টনপ্রতি ৬০০ টাকা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৩ ডিসেম্বর গাবতলী উপজেলার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমানকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খান তার কার্যালয়ে ডেকে নিজের অংশের ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে গালিগালাজ করে অফিসকক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া স্মারকলিপিতে চাল ক্রয়ের জামানতের টাকা উত্তোলনে হয়রানি, মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ধান ক্রয় এবং খাদ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়। এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে খাদ্য উপদেষ্টা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি এটিএম আমিনুল হক বলেন, উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ সত্য। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় মিল মালিকদের ক্ষোভ আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল কাবির খান জানান, ৯ ডিসেম্বর তার কার্যালয়ে বৈঠক হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেন। তবে ঘুষের টাকার বিষয়ে কোনো দরকষাকষির কথা তার জানা নেই। গাবতলী উপজেলার কোনো মিল মালিকের সঙ্গে তিনি অসদাচরণ করেননি বলেও দাবি করেন।

জেলা অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাইদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত অসৎ খাদ্য কর্মকর্তাদের বদলি ও শাস্তির মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান চান তারা। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন