বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাগিবুল হাসান হৃদয়কে হত্যা মামলায় দুজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫-এর বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন ও মো. রাব্বি। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আশিক, শাকিল ও মতিন। রায়ে পাঁচ আসামির প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থের অর্ধেক নিহত হৃদয়ের সন্তানকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত এবং বাকি অর্ধেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যার দিকে বগুড়া শহরের কৈপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় হৃদয়ের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা দাবি করেন আসামিরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা দোকানের ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হৃদয়কে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদয়ের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদার রহমান জানান, চাঁদা না পেয়ে আসামিরা হৃদয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত পাঁচ আসামিকে দণ্ড দিয়েছে। তিনি এ রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান।
রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন হৃদয়ের বাবা-মা।
হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, তার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিলেন। ঈদের আগের দিন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং ঈদের দিন তিনি মারা যান। আর ঈদের পরদিন তার পুত্রবধূ সন্তানের জন্ম দেন।
তিনি বলেন, আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক।
হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদও আদালতের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

