আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চাঁদাবাজি প্রমাণিত হলে আত্মহত্যা করব: বিএনপি নেতা খোকন

উপজেলা প্রতিনিধি, চাটমোহর (পাবনা)

চাঁদাবাজি প্রমাণিত হলে আত্মহত্যা করব: বিএনপি নেতা খোকন

‘চাঁদাবাজির বিষয়ে যদি আমার কোনো জায়গায় সম্পৃক্ততা থাকে, যদি প্রমাণিত হয়, তাহলে আমি রাজনীতি দূরে থাক, আত্মহত্যা করব’ বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন রেজাউল করিম খোকন নামে এক বিএনপি নেতা।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে পাবনার চাটমোহর রেলবাজারে নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
রেজাউল করিম খোকন ওরফে কাজী খোকন চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক। তিনি উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের জগতলা গ্রামের খবির উদ্দিন মাস্টারের ছেলে।
একই উপজেলার মহরমখালী গ্রামের হারুন অর রশীদ নামের এক মাদক কারবারি চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ তোলেন বিএনপি নেতা কাজী খোকনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে রেলবাজার এলাকায় হারুনকে শাসন করেন খোকন। আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, কাজী খোকন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। না দেওয়ায় তাকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন হারুন।
এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা কাজী খোকন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি আমার এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। হারুন একজন মাদকের (ইয়াবা) ডিলার এবং আদম ব্যবসায়ী। এটা সবাই জানে। আমি তার প্রতিবাদ করেছিলাম। এছাড়া তার সঙ্গে মাদক বিক্রির কাজ করে ডলার নামে এক ছেলে। হারুন তাকে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করে।

বিজ্ঞাপন
khokon-1

টাকা ফেরত না দিয়ে তাকে হুমকি-ধমকি দেয়। ডলার কান্নাকাটি করে আমাকে বিষয়টি জানানোর পর হারুনকে ডেকে নিয়ে টাকা ফেরত দিতে বলি। কিন্তু সে টাকা ফেরত না দেওয়ায় কিছু শাসন করি। পুলিশের হাতে তুলে দিতে চাইলে এলাকার কিছু নেতা বিষয়টি সমাধানের কথা বলে হারুনকে নিয়ে যায়। তার পরই আমাদের দলেরই কিছু নেতা ষড়যন্ত্র করে হারুনকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে।’
কাজী খোকন আরো বলেন, ‘মূলত মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা অভিযোগ তুলে চরিত্র হনন করা হয়েছে। আপনারা তদন্ত করে দেখেন, আমাকে সহযোগিতা করেন, প্রশাসনকেও সহযোগিতা করেন। আমি যদি তাই হই, আপনাদের সামনে ওয়াদা করছি, চাঁদাবাজির কোনো বিষয়ে যদি আমি কোনো জায়গায় সম্পৃক্ততা থাকি, তাহলে আমি রাজনীতি দূরে থাক, আত্মহত্যা করব। আর হারুন কেন আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলল তার কাছে প্রমাণ নেন, তদন্ত করে দেখেন। সে একজন মাদকের ডিলার, ইয়াবা ব্যবসায়ী, সেটাও তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিই।’
এদিকে ডলার বলেন, হারুন খাগড়াছড়ি থেকে প্রতি মাসে ১৩০ টাকা পিস ধরে কোটি টাকার ইয়াবা কেনেন। পরবর্তীতে ওই ইয়াবা ৩৫০ টাকা দরে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস আলো, মূলগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি নেতা তোফাজ্জল হোসেন মন্ডল, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মিজানুর রহমান ঠান্টু, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম মোল্লা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...