শিবগঞ্জে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা

শিবগঞ্জে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৮৮ লাখ টাকা
ছবি: আমার দেশ

বগুড়ার শিবগঞ্জে পুলিশের পরিচয়ে বাস থামিয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বেলা আড়াইটায় জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আতোয়ার রহমান এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে সুকৌশলে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছিল। পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণ বিক্রির বড় অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী খায়রুল ইসলাম বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী। গত ৫ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের (২৭) মাধ্যমে ২৪ ক্যারেটের ১০টি তেজাবি স্বর্ণের বার, যার মোট ওজন ১০২ ভরি ১২ আনা, বাসে করে জয়পুরহাটে পাঠান।

ওই দিন বেলা সোয়া ১২টার দিকে বাসটি বগুড়ার শিবগঞ্জ থানাধীন মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসটি থামান। পরে তাঁরা বাপ্পি হোসেনকে জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে শিবগঞ্জ থানার গুজিয়া হাটমণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী গত ২৭ অক্টোবর শিবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৭০ ও ৩৯৪ ধারায় একটি নিয়মিত মামলা করেন। মামলাটির এফআইআর নম্বর ৩৩।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ (পিপিএম)-এর নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মো. জাহাঙ্গীর কবির ও এসআই মোহাম্মদ ফজলুল হকের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় যৌথ অভিযান চালায়।

অভিযানকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থানাধীন তরীনয়হাট এলাকা থেকে মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।

তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর থানাধীন মহিলা কলেজ এলাকা থেকে অপর আসামি মো. আলমগীর হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি মৃত আতোয়ার আলীর ছেলে। পরে আলমগীরের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানাধীন ভীমপুর এলাকা থেকে তদন্তে পাওয়া অপর দুই আসামি মো. রবিউল ইসলাম (২৬) ও মো. আসাদুজ্জামান শাহিদকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিউল ইসলাম আনসার আলীর ছেলে এবং আসাদুজ্জামান শাহিদ আমিনুল ইসলাম মুকুলের ছেলে।

এ সময় আসামি সাদিকুল ইসলামের বসতবাড়ি থেকে স্বর্ণ বিক্রির আরও ১৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া আসাদুজ্জামান শাহিদের পাঁচবিবি থানাধীন বড়মানিক গ্রামে অবস্থিত গরুর খামারের অফিসকক্ষ থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে লুণ্ঠিত স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি এবং রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

ছিনতাই চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন