বগুড়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। জেলার ১১ উপজেলায় ডিলার নিয়োগের তালিকা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ইতোমধ্যে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হলেও অন্যান্য উপজেলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে এসব উপজেলার তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে । তবে কবে নাগাদ তালিকা প্রকাশ করা হবে, তা জানেন না অধিকাংশ সংসদ সদস্য। ফলে নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীরা বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার কাছে ধরনা দিচ্ছেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে দুটি উপজেলার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে। সেগুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্য ১১ উপজেলার তালিকা এখনো প্রকাশিত হয়নি।
গত ৬ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং শাখার কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তার স্বাক্ষরিত স্মারকে মোকামতলার আট ইউনিয়নে আটজন এবং শিবগঞ্জের ৯ ইউনিয়নে ৯ জন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও বাকি ১১ উপজেলার ১৪১ ইউনিয়নের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় বগুড়ার নিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সরকার। এ কারণে অধিকতর তদন্তের পর তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।
আবেদন আহ্বানের পর বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সার ডিলার হওয়ার জন্য আবেদন করেন ১,২৬৬ জন। যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম ধাপে তাদের মধ্যে আট শতাধিক আবেদনকারী বাদ পড়েছেন। তবে বাদ পড়ার কারণ জানতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই।
আবেদনকারীদের অভিযোগ, কিছু ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে আগেই তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। এ জন্য আগেই বাছাই পর্বে ছাঁটাই করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে তালিকা প্রণয়নের অভিযোগও করেন কেউ কেউ।
সূত্র জানায়, সার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় একজন করে সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এ জন্য আবেদনের সঙ্গে ২,০০০ টাকা অফেরতযোগ্য ফি এবং ১০ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত জমা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনে একটি ডিলারশিপের বিপরীতে আবেদন পড়ে ১৬টি। এছাড়া বগুড়া সদরে ১১টির বিপরীতে ৭৪টি, শাজাহানপুরে ৯টির বিপরীতে ১১৪, শেরপুরে ১১টির বিপরীতে ১১৮, ধুনটে ১৩টির বিপরীতে ১৬৪, গাবতলীতে ১৯টির বিপরীতে ১৬২, সারিয়াকান্দিতে ২১টির বিপরীতে ১৬৩, সোনাতলায় আটটির বিপরীতে ৮১, শিবগঞ্জের ১৬টির বিপরীতে ৪৯, মোকামতলায় (নবগঠিত) ১৮টির বিপরীতে ৩৭, কাহালুতে ১০টির বিপরীতে ১০০, দুপচাঁচিয়ায় আটটির বিপরীতে ৭২, আদমদীঘিতে সাতটির বিপরীতে ৬২, নন্দিগ্রামে ছয়টির বিপরীতে ৫৪টি আবেদন জমা পড়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের ১২ সদস্যের কমিটিতে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, যুগ্ম পরিচালক (সার), উপপরিচালক (বীজ বিপণন), বিসিআইসি বাফার গুদামের ইনচার্জ, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এনামুল হক সুমনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রয়েছেন।
কমিটির প্রতিনিধি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জেলা কার্যালয় থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য তিনটি করে আবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কমিটির সদস্য এনামুল হক সুমন জানান, উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করে প্রতি পদের বিপরীতে তিনজনের তালিকা জেলা কমিটিতে পাঠানো হয়। জেলা কমিটির বাছাই শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। তবে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা ছাড়া অন্য ১১ উপজেলার নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।
সংসদ সদস্যদের মধ্যেও নিয়োগের অগ্রগতি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। বগুড়া সদর-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা আমার দেশকে বলেন, সারের ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। প্রধানমন্ত্রীর এলাকা, তিনিই বিষয়টি দেখছেন।
আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার আমার দেশকে জানান, আবেদন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার কাছে বিস্তারিত তথ্য নেই।
জেলা কমিটির সদস্য সচিব ও কৃষি (বীজ-সার) উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দিন ফিরোজ বলেন, উপজেলা থেকে পাওয়া তালিকা যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ উপজেলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে নিয়োগের তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হওয়ায় আবেদনকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ নিয়োগের বিষয়ে সুপারিশ পেতে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন। তবে নিয়োগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


