উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে। আজ বুধবার তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি । এর আগে তাপমাত্রার কিছুটা পরিবর্তন হলে ১০ থেকে ১৫তে ওঠানামা করে।
পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলছে । এদিকে সারা দিন ঘন কুয়াশায় দুই দিন সূর্যে দেখা মিলেনি। এখনো শীতার্ত মানুষের মধ্যে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি। সরকারিভাবে যতটুকু বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ঠান্ডার কারণে সাধারণ মানুষ কাজকর্ম করতে পারছে না। ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জেলা হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার জনজীবন।
চিকিৎসকদের মতে, শীতজনিত রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশু ও বয়স্করা। এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় এ সপ্তাহে তাপমাত্রা কমতে থাকায় শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। আজ তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গতকালের তুলনায় ১ ডিগ্রি কম। এভাবে কমতে থাকলে আগামী কয়েক দিন শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, সরকারিভাবে তেঁতুলিয়া উপজেলার জন্য যতটুকু শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম। স্থানীয়ভাবে শীতবস্ত্র সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
তেঁতুলিয়া হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল রহমান জানান, শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি গরম কাপড় ব্যবহার এবং শীতজনিত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ আলী বলেন, জেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য ২১ হাজার ১৪০ পিস কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা ইতোমধ্যে পাঁচটি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া বাড়তি শীতবস্ত্র চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

