পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা চার দিনের হাড় কাঁপানো শীত ও শৈত্যপ্রবাহের পর অবশেষে সূর্যের দেখা মিলেছে। আজ বুধবার সকাল ১১টার পর ঝলমলে রোদে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। তবে উত্তরের হিমেল বাতাসে এখনও শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার চলতি মৌসুমে উপজেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৯টার দিকে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ।
টানা চার দিন ধরে ঈশ্বরদীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে শৈত্যপ্রবাহ। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, মঙ্গলবার ঈশ্বরদীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন ৫ জানুয়ারি দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ঈশ্বরদীতে—৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৪ জানুয়ারি তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি, ৩ জানুয়ারি ৯ ডিগ্রি, ২ জানুয়ারি ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি এবং ১ জানুয়ারি ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ বুধবার দুপুরে পৌর শহরের স্টেশন এলাকা, বাজার ও রেলগেট ঘুরে দেখা গেছে, ঝলমলে রোদে শীত নিবারণের আশায় মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে রোদ পোহাচ্ছে। অনেকেই দোকানের সামনে কিংবা সড়কের পাশে বসে চা পান করছেন, নিচ্ছেন রোদের উষ্ণতা । শহরের ফকিরের বটতলায় দেখা যায়, বেশ কিছু নারী-পুরুষ ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনছেন।
ঈশ্বরদী জংশন রেলস্টেশনে সারিবদ্ধভাবে রোদে বসে থাকতে দেখা গেছে ছিন্নমূল শিশু-কিশোর ও বৃদ্ধদের। আজিম উদ্দিন (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে রোদ ছিল না, শীতের কাপড়ও নেই। স্টেশনের বারান্দায় শুয়ে থাকা খুব কষ্টকর ছিল। আজ রোদ দেখে এসে বসেছি, বেশ আরাম লাগছে।’
উপজেলার চরসাহাপুর নতুন হাট মোড়ে শাক বিক্রি করতে আসা কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘সকালে ক্ষেত থেকে শাক তুলে বাজারে এনেছি। কদিন তীব্র শীতে বেচাকেনা ছিল না। সকাল ১১টার পর রোদ উঠতেই মানুষ বাজারে আসতে শুরু করেছে। রোদে বসেই শাক বিক্রি করে বাড়ি ফিরবো।’
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, টানা চার দিন পর সূর্যের দেখা মিলেছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেলেও সকাল ১১টার পর ঝলমলে রোদ উঠেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন করে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

