পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর রাজশাহী রেঞ্জজুড়ে আবারও বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ‘অপারেশন ফার্স্ট লাইট’ নামে গত শুক্রবার রাতে পরিচালিত অভিযানে নাটোরের নলডাঙা, সিংড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। এতে মোট ৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে সর্বহারা গোষ্ঠীর দুই সদস্য, ডাকাত দলের এক সদস্য, অস্ত্রধারীর সহযোগীসহ নিয়মিত মামলার ২০ আসামি, মাদক মামলার চারজন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২৩ জন এবং সন্দেহভাজন ২২ জন রয়েছে। অভিযানে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি দেশীয় অস্ত্র, এক কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা এবং সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার নিঙ্গইন ভাটোপাড়া গ্রামের কুখ্যাত ডাকাত দলের সদস্য শহিদুল ইসলাম, যিনি আটটি মামলায় বিচারাধীন ছিলেন, তাকে দীর্ঘদিন পর এ অভিযানে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার পাবনার সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়াগড়ি এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সময় এক ব্যক্তিকে পিস্তল হাতে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ঘটনাপরবর্তী অভিযানে তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
ডিআইজি জানান, ওই ব্যক্তিকে কোনো দলই নিজেদের কর্মী হিসেবে স্বীকার করছে না। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। ডিআইজি শাহজাহান বলেন, নির্বাচনের আগে এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসী সক্রিয় হয়। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমরা কঠোর অভিযান পরিচালনা করছি।
অভিযানের তদারকিতে ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জের দুই অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার (এসপি), সার্কেল কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট থানার ওসি। অভিযানে জেলা পুলিশের পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ও রিজার্ভ ফোর্স অংশ নেয়।

