ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ‘রেশম মিল কিংবা কর্মকর্তাদের জিম্মি করে যেকোনো ধরনের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং কারখানা জিম্মি করে কোনো নেতাগিরি চলবে না।’
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী রেশম কারখানা চত্বরে অবস্থিত আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তুঁতচারা রোপণ এবং কারখানার ১৫টি বন্ধ পাওয়ার লুম পুনরুদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী রেশম কারখানা এ অঞ্চলের মানুষের অন্ন জোগায় এবং পরিবারগুলোর জীবিকার প্রধান অবলম্বন। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমানে কারখানায় ১৫টি লুম সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। খুব শীঘ্রই কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে লুমের সংখ্যা ১৫টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টিতে উন্নীত করা হবে।’
অসুস্থ শ্রমিক রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘রেশম কারখানাকে জিম্মি করে কেউ সাময়িক ফায়দা লুটতে পারলেও তাতে স্থায়ী কোনো কল্যাণ আসবে না; বরং নিজেদের ভুলের কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই অহেতুক নেতৃত্ব ফলানো বা জিম্মি করার মানসিকতা ত্যাগ করতে হবে। কারখানার অস্তিত্ব রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে যারা ভূমিকা রাখবে, কেবল তাদেরই এখানে কাজ করার সুযোগ থাকবে। এই প্রতিষ্ঠান মানুষকে রিজিক দেয়; প্রয়োজনে নিজের রক্ত বিক্রি করে হলেও শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশে দাঁড়াব, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিকারক কাউকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।’
নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনে স্বজনপ্রীতি সম্পূর্ণ বর্জনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘নিজের সন্তান বা পরিবারের সদস্যের চাকরির সুপারিশ নিয়ে কোনো এমপি বা ভাই ফোন করলেও আমি কাউকে অন্যায্য সুবিধা দেব না।’
দীর্ঘ ৪২ বছর সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বয়স ও শারীরিক বাস্তবতায় একসময় নতুন ও যোগ্যদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তাই সংকীর্ণ স্বার্থ ত্যাগ করে ভালোবাসা ও ভালো ব্যবহার দিয়ে সবার মন জয় করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো অন্যায় বা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক তৌফিক আল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন— রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ ইউসুফ আলী এবং রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈসা। এ ছাড়া রেশম উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও ব্যবসায়ী মো. আসলাম সরকার, মো. আশরাফ জামালসহ বোর্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, গবেষক ও রেশম চাষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কারখানায় মোট ৪২টি লুমের মধ্যে এতদিন বন্ধ থাকা লুমগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিল্ক কাপড়ের উৎপাদন বাড়ানো এবং স্থানীয় তাঁতিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি সিল্ক শিল্পের মূল কাঁচামাল রেশম গুটির পর্যাপ্ত ও টেকসই সরবরাহ নিশ্চিত করতে কারখানা চত্বর ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক হারে তুঁতচারা রোপণের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

