উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কদিনের টানা বৃষ্টিতে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনায় পানি বাড়ায় ভাঙনে দিশাহারা নদীপাড়ের শত শত মানুষ। পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুসরি, বারপাখিয়া, কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া চৌহালী উপজেলায়ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে কাজীপুর উপজেলার পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতভিটা ও ঘরবাড়ি।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৮৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় তারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন নুরুল আমীন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় তিন সেন্টিসিটার ও কাজীপুরে মেঘাইঘাট পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বাড়ার কারণে জেলার ৮৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের ইয়াসিন মোল্লা বলেন, নদীভাঙনে আমি সর্বস্বান্ত। চরে আমার প্রায় ৬০ বিঘা জমি ছিল। এসব জমিতে ফসলের আবাদ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতাম। কিন্তু সর্বনাশা যমুনা নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব। ভাঙনের কারণে আমার মতো অনেকেই আজ পথের ভিখারি। কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকার আব্দুল কাদের বলেন, সহায়-সম্বল যা ছিল, সবকিছু এখন নদীর পেটে। প্রতিনিয়ন কোনো না কোনো এলাকা ভাঙছে। শুষ্ক মৌসুমে যমুনা থেকে অবৈধভাবে যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি মাসে এই এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, ফসলি জমি নদীতে
চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার, পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বসতভিটা ও ঘরবাড়ি।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, গত ১৩ জুলাই থেকে টানা আটদিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে এলাকায় তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময় কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টেও তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ভাঙন রোধে বালুর বস্তা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

