এলাকাবাসীর দাবি একটি ব্রিজ

রায়গঞ্জে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

রায়গঞ্জে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা
খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। ছবি: আমার দেশ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলকা ইউনিয়নের তিননান্দিনা এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর একটি সেতুর অভাবে প্রতিদিন খেয়া নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা । বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে তাদের দুর্ভোগ ও নিরাপত্তা ঝুঁকি আরো বাড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর দাবি জানানো হলেও এখনো স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফুলজোড় নদীর দেই তীরের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম খেয়া নৌকা। শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন প্রয়োজনের তাগিদে এই নদী পার হতে হয়। কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সেতুর অভাব দীর্ঘদিনের ভোগান্তি তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন সকালে বই-খাতা নিয়ে স্কুলের উদ্দেশে শিক্ষার্থীদের খেয়াঘাটে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। নৌকা এলে অনেকেই একসঙ্গে নদী পার হয়। নৌকা পেতে দেরি হলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় ঘাটে বসে থাকতে হয়। এতে অনেকের বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়। স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার সময়ও একই দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।

তিননান্দিনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মতিন ও আব্দুল হামিদ বলেন, বর্ষাকালে নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে খেয়া নৌকায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ঝড়-বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সময় প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই মানুষকে নদী পার হতে হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুলে যায়। বর্ষার সময় নদী উত্তাল থাকলে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকতে হয়। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ হলে এই দুশ্চিন্তা ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে।

তিননান্দিনা স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন ও সুমাইয়া খাতুন বলে, প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সময় খেয়া নৌকায় নদী পার হতে হয়। অনেক সময় নৌকা না থাকলে ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। বর্ষাকালে নদীতে বেশি পানি ও স্রোত থাকায় ভয়ও লাগে। এখানে সেতু হলে স্কুলে যাতায়াত অনেক সহজ ও নিরাপদ হবে।

অভিভাবক আল মাহমুদ বলেন, সন্তানদের প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

তিননান্দিনা হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর কোনো সেতু না থাকায় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে। বর্ষায় নদীতে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে তাদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ জরুরি। সেতু হলে শুধু শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিই কমবে না, দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক তালুকদার বলেন, তিননান্দিনা এলাকায় ফুলজোড় নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের দাবি, ফুলজোড় নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দুই তীরের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকটের সমাধান করবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন