সিন্ডিকেটের কবলে রায়গঞ্জের ধানের হাট

আমিনুল ইসলাম হিরো, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)

সিন্ডিকেটের কবলে রায়গঞ্জের ধানের হাট
ছবি: সংগৃহীত

রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সরকারি নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত ওজনে ধান ক্রয় এবং খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ ও ধান আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। আড়তদার, ক্রেতা, ফড়িয়া ও ইজারাদারদের চতুর্মুখী সিন্ডিকেটের কারণে এলাকার কৃষকরা চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার প্রাচীন ও বড় হাট সলঙ্গা, চান্দাইকোনা, নিমগাছীসহ অন্তত ১০টি ধানের হাটে ধান ক্রয়-বিক্রয় হয়। এছাড়া এক শ্রেণির ব্যাপারি নির্ধারিত কমিশনের ভিত্তিতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে নেয়। ধান বেচা কেনায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিতে মণ হওয়ার কথা থাকলেও প্রতি মণ ধানে দুই থেকে তিন কেজি ধান বেশি নেওয়া হচ্ছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী ক্রেতা ও আড়তদারদের নিয়ন্ত্রণে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য। এছাড়া ইজারাদাররা ধান বিক্রেতাদের নিকট থেকে খাজনা বাবদ নগদ টাকা আদায়ের পাশাপাশি ধান (তোলা) বাবদ প্রতি মণে দেড় থেকে দুই কেজি পর্যন্ত অতিরিক্ত ধান নিয়ে থাকে। এতে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়লেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা ও প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

বিজ্ঞাপন

চান্দাইকোনা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, সার, তেল, সেচ ও শ্রমিকের খরচ কয়েকগুণ হলেও ধানের দাম বাড়েনি । ধান বিক্রি করার সময় কৃষকরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের ফাঁদে পড়তে হয়।

তেলিজানা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ঘুড়কা হাটে ধান বিক্রি করতে এক মণ ধানে (৪০ কেজিতে) অতিরিক্ত তিন থেকে চার কেজি ধান বেশি দিতে হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, কৃষকদের উৎপাদন খরচই উঠছে না, সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ধানের হাটে অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন