বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি-হেউটনগর সড়কের কালভার্টটি হঠাৎ ধসে পড়েছে। তবে এ সময় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। টানা বর্ষণে পাশের মাটি সরে গত সোমবার সকালে কালভার্টটি পাকা সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ধসে পড়ে। এতে উপজেলার নিমগাছি ও কালেরপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের সড়কপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অর্থায়নে ২০০১ সালে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশন উন্নয়নে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য এই কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের কাজ করার কারণে কালভার্টটি বেশি দিন টেকসই হয়নি। কালভার্টটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই অনেকটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে। নিম্নমানের কাজের সাক্ষী হিসেবে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কালভার্টটি দাঁড়িয়ে ছিল।
এ অবস্থায় কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে যায়। ওই পানি নিষ্কাশনের সময় প্রবল স্রোত ও পানির চাপে এক পাশের মাটি সরে যাওয়ায় কালভার্টটি ধসে পড়ে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ধসে পড়া কালভার্টটি দুপাশের পাকা সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হঠাৎ কালভার্টটি ধসে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষকে বিকল্প পথে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণে কালভার্টটি টেকসই হয়নি। নির্মাণের পর থেকে কালভার্টটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি ও পানির চাপে এটি ধসে পড়ে। দ্রুত নতুন কালভার্ট নির্মাণ ও যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী বখতিয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আপাতত যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য নতুন একটি কালভার্ট নির্মাণের প্রাক্কলন তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। পরে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে সেখানে একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা হবে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

