আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পাইলট তৌকিরের মৃত্যুতে স্তব্ধ শিবগঞ্জবাসী

উপজেলা প্রতিনিধি, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)

পাইলট তৌকিরের মৃত্যুতে স্তব্ধ শিবগঞ্জবাসী
নিহত পাইলট তৌকিরের পৈতৃক বাড়ি

‘আমরা শোকাহত, মর্মাহত। আমাদের এলাকার গর্ব ছিল সুচরিত্রের অধিকারী সবার ভালোবাসার পাত্র পাইলট তৌকির ইসলাম সাগর। আমরা চাই আমাদের এই কৃতী সন্তানের জানাজা ও দাফন তার জন্মস্থান এই চককীর্তি ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামেই হোক। এতে আমরা শেষবারের মতো তার মুখ দেখতে পাবো এবং প্রাণভরে দোয়া করতে পারবো।’ এসব কথা বললেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের বিভিন্ন পেশার শোকাহত মানুষ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সরজমিন পাইলট তৌকিরের জন্মস্থান কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হয়। গ্রামের আবুল কাশেম বলেন, তৌকির ইসলাম সাগর ও তার পরিবার বহু আগে থেকেই দানশীল ও পরোপকারী। পাইলট তৌকির ইসলাম সাগরও অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি এখানে জন্মগ্রহণ করলেও বেড়ে ওঠা রাজশাহী শহরে। তবে তিনি কখনো ভুলে যাননি এলাকার সাধারণ মানুষের কথা। যখনই এলাকার কোনো রোগী রাজশাহীতে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য গেছেন, তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা খবর পাওয়া মাত্রই ছুটে গেছেন, খোঁজ-খবর নিয়েছেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।

এলাকার এক শিশু সাদ আহমেদ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সাগর কাক্কু খুব ভালো ছিলেন। বাড়ি আসলেই আমাদের লেখাপড়ার খোঁজ-খবর নিতেন এবং আদর করতেন। এমনকি খাতা-কলম কেনার টাকা দিতেন। কাক্কুকে এক নজর দেখতে পেলে এবং তার জানাজা ও দাফন এখানে হলে খুব ভালো হতো। আমি দোয়া করি তিনি যেন জান্নাতবাসী হন।’

প্রতিবেশী আলাউদ্দিন, আবদুল লতিফ ও আলহাজ শান্তিজুল বলেন, সাগরের পরিবার ঐতিহ্যবাহী। তারা এখানে না থাকলেও সার্বক্ষণিক এলাকার খোঁজ-খবর নিতেন। তিনি যথেষ্ট ধর্মপরায়ণ ছিলেন। তার পিতা তোহরুল ইসলাম ও মাতা সোলেহা বেগম মসজিদের নামে জমি দিয়েছেন। মসজিদ নির্মাণ করে দিয়েছেন। আমরা চাই সাগরের মৃতদেহ আমাদের এলাকায় দাফন করতে।

তারা আরও জানান, এখানে সাগরের পরিবারের ভিটাবাড়ি ও জমিজমা থাকলেও কেউ বসবাস করেন না। তারা দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী ও ঢাকায় বসবাস করে আসছেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকার উত্তরায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট তৌকির ইসলাম সাগর নিহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের হায়দার আলী ভবনে এফ-৭ বিজেআই প্রশিক্ষণ বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও আহত হন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন