দখল ও দূষণে স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে বগুড়ার এককালের খরস্রোতা করতোয়া নদী সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছিল। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে গত বছর কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় নদীর ডান তীরে স্লোপ প্রটেকশনের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। এতে করে হারানো যৌবন ফিরে পাবে করতোয়া। চলতি বছরে সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ শেষ হলে পূরণ হবে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
জানা গেছে, করতোয়া নদীর বগুড়া অংশে পুনঃখনন ও স্লোপ প্রটেকশনের অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। এর আগে শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা থেকে সদর উপজেলার মাটিডালি পর্যন্ত করতোয়া নদীর ১৭ কিমি পুনঃখনন কাজ গত বছরের মার্চে উদ্বোধন করা হয়।
৪৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় করতোয়া নদী পুনঃখনন এবং স্লোপ প্রটেকশন কাজ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে শহর অংশে এসপি ব্রিজ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত ৭৩৫ মিটার নদীর তীর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা পাবে। এছাড়া নতুন করে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটিডালি থেকে নওদাপাড়া পর্যন্ত ১১ কিমি পুনঃখনন করা হচ্ছে।
নদীটির খনন সম্পন্ন হলে প্রাকৃতিক উৎস থেকে এ অঞ্চলের মানুষ মৎস্য আহরণ করতে পারবে। স্থানীয় কৃষকরা সময়মতো কৃষিজমিতে সেচ দিতে পারবেন। সব মিলিয়ে বগুড়ার অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবেÑএমন ধারণা স্থানীয়দের।
পাউবো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, নতুন করে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটিডালি থেকে নওদাপাড়া পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হচ্ছে। এর আগে ১৭ কিলোমিটার খননকাজ শেষ হয়েছে। বগুড়া অংশে মোট ২৮ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন করা হচ্ছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরেই শেষ হবে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।
বগুড়া পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিপার আল-বখতিয়ার জানান, করতোয়া নদীর বদলে যাওয়া রূপ দেখার প্রত্যাশায় শহরবাসী। খননকাজ শেষ হলে এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। কৃষিজমিতে পানি আটকে থাকবে না। তিনি আরো বলেন, নদীকে ঘিরে বগুড়া আরো আধুনিক নগরীতে পরিণত হবে।
এদিকে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে দখল হওয়া নদীর উদ্ধার করা অংশে নদী খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। গত রোববার ডিসি বগুড়া ফেসবুক পেইজে খনন কার্যক্রম পরিদর্শনের ছবি পোস্ট দিয়ে তাতে লেখেন, ‘বিসিএল গ্লাস ফ্যাক্টরির অবৈধভাবে দখল করা করতোয়া নদীর উদ্ধার করা অংশে নদী খনন কর্মসূচি পরিদর্শন। অন্তর্বর্তী সরকার দেশের যে ছয়টি নদী প্রাথমিকভাবে দখল ও দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে, তার মধ্যে করতোয়া অন্যতম।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

