বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম–কাহালু) আসনের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্সের (বিএসএস) সনদ জালিয়াতি করে ভুয়া সনদ তৈরি ও তা ব্যবহার করে কলেজের সভাপতির পদ গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের সিংড়া আমলি আদালতের বিচারক সারোয়ার জাহান মামলাটি আমলে নিয়ে নাটোর জেলা পিবিআইকে দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার থাওইল গ্রামের মো. মাসুদ আলী এ মামলা করেছেন। তিনি নিজেকে সনদের প্রকৃত মালিক দাবি করেছেন। আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. মাসুদ রানা।
মাসুদ আলী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে বিএসএস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২১২৪৯৩ ও রোল নম্বর ১৩৬৮৬৯। ওই বছর তিনি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন ও পরে আর পরীক্ষা দেননি। অভিযুক্ত মোশাররফ হোসেন চাতুর্যের মাধ্যমে বাদীর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে একই সেশন দেখিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস পাসের জাল সনদ সংগ্রহ করেন।
এরপর তিনি সেই সনদ ব্যবহার করে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর বগুড়ার কাহালু উপজেলার আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান। মামলার বাদী মাসুদ আলি আদালতে এসব তথ্য দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজিজুল হক মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সভাপতি, বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোশাররফ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সনদ জালিয়াতির অভিযোগটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। গত ২৮ মে আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি পাসের মূল সনদ নিয়েছি। আমার বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এ মামলা করিয়েছে।
এ বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তিনি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।

