রুয়েটে যৌথ অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

প্রতিনিধি, রুয়েট

রুয়েটে যৌথ অভিযানে ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
ছবি: আমার দেশ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর পৌনে ১টা পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা অধিকার আইনে সর্বমোট ১৬ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাকের আহ্বানে পরিচালিত এ অভিযানে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সংরক্ষণ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, খাবার সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করা এবং খাদ্যের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার মতো বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসে। অভিযানের সময় কালিযুক্ত কাগজের প্যাকেট, বাসি খাবার ও অনুমোদনহীন ফুড কালার জব্দ করা হয়।

অভিযানে ফটিক জলকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চারু আড্ডা, বাইটস এন্ড ব্রিউ লাইফ বেকারি এবং রুয়েট ক্যাফেটেরিয়াকে ২ হাজার টাকা করে সতর্কতামূলক অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া খাবারে পোকা পাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাংলা টিফিন ক্যান্টিনকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। শহীদিলের টং থেকে কালিযুক্ত কাগজের প্যাকেট জব্দ করে সতর্কতামূলক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফজলে এলাহী, রাজশাহীর জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা চিন্ময় প্রামাণিক এবং বিএসটিআইয়ের ইনস্পেক্টিং অফিসার ইঞ্জিনিয়ার জোনায়েদ আহমেদ। রুয়েট প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার।

অভিযান সম্পর্কে ফজলে এলাহী বলেন, ‘রুয়েট ক্যাম্পাসে রুয়েট কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। জুস বার থেকে শুরু করে ছাত্রদের খাবারের সবগুলো স্থান পরিদর্শনের চেষ্টা করেছি। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আমরা নিয়মের ব্যত্যয় পেয়েছি। তাদের সতর্কতামূলকভাবে আর্থিক দণ্ড প্রদান করা হয়েছে।’

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয়ের নির্দেশে আজকের এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ছাত্রদের জন্য রুচিশীল মানসম্মত খাবার রুয়েট প্রশাসনের অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ পাশাপাশি যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ দ্রুত রুয়েট প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

অভিযানকে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচকভাবে দেখলেও খাবারের মান ও মনিটরিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন