পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে রাজশাহীবাসীর আনন্দে ছাই পড়েছে। নিত্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ করেই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে রাজশাহী শহরের মাস্টারপাড়া, শালবাগান, খড়খড়ি, কাটাখালী, হড়গ্রাম ও মনি চত্বরের কাঁচাবাজারগুলোতে অস্বাভাবিক দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপণ্য। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, শসা ও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।
নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেগুন গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি থাকলেও এখন তা ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসাও বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়, যা কয়েকদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। কাঁচামরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১৬০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। টমেটো ২০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকা কেজি, পেঁয়াজ ৩৫ থেকে বেড়ে ৫০ টাকা, আর আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা দরে। লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং লেবুর হালি ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ২৯০ টাকা, আর দেশি মুরগির দাম ১০০ টাকা বেড়ে ৫৮০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ টাকা ও খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে।
রমজানের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ খেজুরের দামও বেড়েছে। মরিয়ম খেজুর ২০০ টাকা বেড়ে ১২০০ টাকা, মেডজুল ১৪০০ টাকা এবং দাবাস খেজুর ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার মাষ্টারপাড়ায় দেখা গেছে, নিম্নআয়ের ক্রেতাদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। কেউ ব্যাগ হাতে দাঁড়িয়ে থাকছেন, কারো ব্যাগে অল্প কয়েকটি পণ্য, আবার কেউ প্রায় খালি হাতেই ফিরে যাচ্ছেন।
এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাজারে এলাম কিছু কিনব বলে, কিন্তু শসা-লেবুর দাম শুনে মাথা ঘুরে গেল। সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী। আমাদের মতো গরিব মানুষ কী খেয়ে রোজা রাখবে?
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে।
আনোয়ার নামের এক ক্রেতা বলেন, রোজার শুরুতে প্রতি বছরই দাম বাড়ে, কিন্তু এবার যেন মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টকর। সরকারকে কঠোরভাবে বাজার তদারকি করতে হবে।
তবে বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়ছে। পাইকারি বিক্রেতা জনি জানান, আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। মুনাফা বাড়েনি, উল্টো বাজার অস্থির হলে আমাদেরও লোকসান হয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজানে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু শুরু থেকেই যদি এই মূল্যবৃদ্ধির ধারা চলতে থাকে, তাহলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ চরম সংকটে পড়বেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিয়মিত বাজার মনিটরিং ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক মো. ইব্রাহীম হোসেন বলেন, রমজান উপলক্ষে প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে খেজুরের ক্রয়মূল্যের রসিদ যাচাই করা হচ্ছে। কোথাও অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

