কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় চাঞ্চল্যকর ফারহানা ইয়াসমিন তমা (১৮) হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত তমার সাবেক স্বামীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। নিহত ফারহানা ইয়াসমিন তমা ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—তমার সাবেক স্বামী আবু বকর সিদ্দিক (২৮) এবং তাদের পারিবারিক বিরোধ মীমাংসার মধ্যস্থতাকারী রাসেল আলী (৩০)।
পুলিশি তদন্তে আরো জানা যায়, তিন মাস আগে আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে তমার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য রাসেল আলী মধ্যস্থতা করতে আসেন এবং একপর্যায়ে রাসেলের সঙ্গে তমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন রাতে রাসেলের ডাকে সাড়া দিয়ে তমা ফকিরারবাদ বাজারে দেখা করতে যান।
পরে রাসেলের মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় আউড়ের বিলের মোড়ে তমা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং জ্ঞান হারান। অবস্থা বেগতিক দেখে আসামি রাসেল তাকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
পুলিশ জানায়, ভিকটিমকে ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হতে মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

