আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত লালপুরের জনজীবন, বাড়ছে হাসপাতালে শিশু ভর্তির চাপ

উপজেলা প্রতিনিধি, (লালপুর) নাটোর

তীব্র শীতে বিপর্যস্ত লালপুরের জনজীবন, বাড়ছে হাসপাতালে শিশু ভর্তির চাপ
ছবি: আমার দেশ।

নাটোরের লালপুরে তীব্র শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। শীতের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে লালপুর উপজেলা এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অফিস।আবহাওয়া অফিস স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তীব্র ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি শিশু ও বয়স্করা ভোগান্তিতে পড়েছেন, সেই সাথে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর-রিকশাচালক ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী।

বিজ্ঞাপন

প্রচন্ড শীতের কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না, এতে দৈনিক আয়ের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকে সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে কর্মস্থলগামী মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এদিকে শীতের তীব্রতায় শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডা জনিত রোগের ঝুঁকি বেড়েছে, অনেক এলাকায় শীত বস্ত্রের অভাবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ চরম কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করছেন। বিশেষ করে ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি ৪৬ জন রোগীর বেশিরভাগই ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে ১১ জন ছেলে, ১২জন মেয়ে শিশু রয়েছে। এছাড়া ঠান্ডা জনিত কারণে বয়স্করাও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সুরুজ্জামান শামীম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঠান্ডাজনিত কারণে ২৩ শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ঠান্ডা জনিত কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। এ অবস্থায় বিশুদ্ধ পানি পান গরম কাপড় ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতার্ত মানুষের শীতবস্ত্র বিতরণ না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, সোমবার সকালে ঈশ্বরদী -লালপুর উপজেলা এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, ইতোমধ্যে লালপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ছিন্নমূল- অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে ২ হাজার ৫৮৫টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে আরো কম্বল বিতরণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন