পাবনার চাটমোহরে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে হুমকি, অবৈধভাবে মাটিকাটাসহ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই সুইগ্রামের গোলাপ ও তার দুই ছেলে মিরাজ, আনোয়ার মেম্বার এবং সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন, জামাল, তানজিল, শাহ আলম সাচ্চু গংদের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছিল।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গিয়াস চেয়ারম্যান গং বিএনপির প্রার্থী কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের (ধানের শীষ) পক্ষে অংশ নেয়।
অপরদিকে গোলাপ গং বিদ্রোহী প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলামের (ঘোড়া) পক্ষে কাজ করে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের খতবাড়ী দক্ষিণপাড়া লালনের মোড়ে রেজাউলের চা স্টলে বসে টেলিভিশন দেখার সময় মুখোশধারী তিনজন দুর্বৃত্ত অতর্কিত কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। এ সময় রমজানের ছেলে দিনমজুর সাজেদুলের (৪২) পেটে এবং রেজাউলের ছেলে দিনমজুর নাঈমের (৪০) ডান হাত গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় আরো ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।
এলাকাবাসী মুমূর্ষু অবস্থায় নাঈম ও সাজেদুলকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের জখম গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় বলে জানান ডাক্তার খন্দকার নাফিজ সাদিক।
এদিকে ঘটনার পরপরই এএসপি (চাটমোহর সার্কেল) আবু বকর সিদ্দিক, অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম সারওয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জানান, এলাকায় চাঁদাবাজি, মাটিকাটা, হুমকি-ধমকি এবং আধিপত্য বিস্তার করতেই গোলাপ, মিরাজ এবং আনোয়ার মেম্বার গুলি করেছে।
অপরদিকে আনোয়ার মেম্বার জানান, ওই সময় আমরা কেউ ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। জামালদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে চাটমোহর থানা অফিসার ইনচার্জ গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

