গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আনিছুর রহমান নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার আনিছুর রহমান উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের পাঁচগাছি শান্তিরাম গ্রামের মৃত আবর উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, রোববার ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় চার মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রোববার দিবাগত রাতে সুন্দরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে বিস্ফোরক দ্রব্য প্রস্তুত, ককটেল বিস্ফোরণ ও তা দখলে রাখা এবং অন্তর্ঘাতী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা’র বাড়ির সামনে প্রথম ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
এর দুই মিনিট পর ভোর ৪টা ২৮ মিনিটে গোপালচরণ উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় তৃতীয় ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বিস্ফোরণের সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল। তবে এ দাবির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, “১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে এবং ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ মামলায় আনিছুর রহমান নামের এক আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার আসামিদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

