সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল কবীরের বদলির পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এ পদে কেউ যোগদান করেননি। এতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর ইউএনও আশরাফুল কবীর সাঘাটা থেকে বদলি হয়ে ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলায় যোগদানের উদ্দেশ্যে বিদায় নেন। এরপর থেকে পার্শ্ববর্তী ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও সপ্তাহে দুই এক দিন সাঘাটা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করছেন। ফলে প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের একাধিকবার উপজেলা সদরে আসতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভরতখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মশিউর রহমান জানান, ছোট ভাইয়ের জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কাজে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারি, ইউএনও সেদিন অফিসে নেই। পরে কাজ না করেই আমাকে ফিরে আসতে হয়েছে।
ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন জানান, ইউএনও বদলি হওয়ার পর জন্মনিবন্ধন সংশোধনসহ কিছু কাজে নাগরিকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে। তবে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও কার্যক্রম শুরু করায় ভোগান্তি কিছুটা কমেছে।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সেবা নিতে আসা আরও কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানা গেছে।
তাদের দাবি, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ইউএনও সপ্তাহে নির্দিষ্ট দুই দিন সাঘাটায় অফিস করায় জরুরি প্রশাসনিক কাজে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এ উপজেলায় দ্রুত একজন ইউএনও যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (সাঘাটা উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘অতি দ্রুতই এখানে নতুন অফিসার যোগদান করবেন। সাময়িক সমস্যা হচ্ছে।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

